নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নগর ইউনিয়নের ধানাইদহ বাজার এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের স্থানীয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহল জোরদার করেছে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমির মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে প্রথমে বনপাড়া শহরের আমিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার বিকেলে। ধানাইদহ বাজারে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মী সাব্বিরকে মারধর করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা—এ অভিযোগ ওঠে। এর জেরে শনিবার সকালে বিএনপি নেতা আসাব সরকারকে মারধর করেন জামায়াতের কর্মীরা। এরপর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বাজারের কয়েকটি দোকান ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। অন্তত ৮ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও, পুলিশের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | ধানাইদহ বাজার, নগর ইউনিয়ন, বড়াইগ্রাম, নাটোর |
| তারিখ | ১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) |
| জড়িত পক্ষ | বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় গ্রুপ |
| আহত | ৮–১২ জন (প্রাথমিক তথ্য) |
| গুরুতর আহত | মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান |
| চিকিৎসা | আমিনা হাসপাতাল → রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| কারণ | নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি হামলা |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার ও নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে প্রায়ই এমন সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কখনও কখনও বৃহত্তর দলের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উভয় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সংশ্লিষ্টদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
