চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৩৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময় একজনের মৃত্যুও হয়েছে। আগের মাসের তুলনায় সংক্রমণের এই গতি জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে জেলা ও মহানগর এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন মোট ১ হাজার ২০২ জন। ওই মাসে মারা যান দুজন। অর্থাৎ পুরো আগস্টে যে সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের প্রথম কয়েক দিনেই তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শনাক্ত হয়েছে। ফলে মাসের বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬৭ হলেও বাস্তবে রোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে শনাক্ত হওয়া সব রোগীর তথ্য সরকারি হিসাবের আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে না আসায় প্রকৃত চিত্র কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত অভিযান, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রস্তুতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। এসব উদ্যোগে দেরি হলে সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ ও অক্টোবর মাসে রোগীর চাপ আরও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রামে সাধারণত বর্ষাকালে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করে। বাড়ির আশপাশের পাত্র, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা কিংবা এমন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিও মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু নগর কর্তৃপক্ষের অভিযান নয়, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, এ সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এই প্রবণতা অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় উপকরণের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগের সংকটপূর্ণ সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা। সিভিল সার্জনের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিকে সাধারণত জ্বর থাকে। কিন্তু চতুর্থ থেকে সপ্তম দিন অনেক রোগীর জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ সময় জ্বর কমে গেলে রোগী বা পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় ধরে নেন যে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। অথচ এই সময়েই অসুস্থতার প্রকৃত ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
তাই জ্বর কমে গেলেই চিকিৎসা বা পর্যবেক্ষণ বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন, দুর্বলতা বা অন্য কোনো উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থার প্রস্তুতিও সমান জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিকদের সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ডেঙ্গুর প্রকোপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।









