বগুড়ায় শিশুখাদ্যে নিষিদ্ধ রং, কঠোর অভিযান

বগুড়ায় শিশুদের জন্য উৎপাদিত খাদ্যে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ব্যবহার করে বাজারজাতের গুরুতর অভিযোগে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভোক্তা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো আর বাজারে প্রবেশের সুযোগ না পায়।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বিএফএসএর বগুড়া জেলা কার্যালয় এই অভিযান পরিচালনা করে। শহরের আটাপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স আবিদ ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহায়তা করে।

অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য ব্যবহৃত খাদ্যপণ্য ‘তাল মিসরি’ উৎপাদনে নিষিদ্ধ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর টেক্সটাইল রং ব্যবহার করছে। এ ছাড়া নকল ও বিভ্রান্তিকর মোড়ক ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাতের প্রস্তুতিও চলছিল। কারখানার ভেতরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন, যা বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, চানাচুর, সেমাই ও বুন্দিয়া তৈরিতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী এসব অপরাধ শাস্তিযোগ্য হওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ ও তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অনিরাপদ শিশুখাদ্য, কাঁচামাল ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পুনরায় এমন অপরাধে জড়িত হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, শিশুখাদ্যে নিষিদ্ধ রং ব্যবহার একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক অভিযান খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করা এখন সময়ের দাবি।

অভিযানের সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
প্রতিষ্ঠানমেসার্স আবিদ ট্রেডার্স
অবস্থানআটাপাড়া, বগুড়া
অপরাধের ধরননিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ব্যবহার, নকল মোড়ক, অস্বাস্থ্যকর উৎপাদন
প্রযোজ্য আইননিরাপদ খাদ্য আইন
জরিমানার পরিমাণ৫,০০,০০০ টাকা
জব্দকৃত পণ্যশিশুখাদ্য, চানাচুর, সেমাই, বুন্দিয়া ও কাঁচামাল
গৃহীত ব্যবস্থাজরিমানা আদায় ও অনিরাপদ পণ্য ধ্বংস

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে বাজারে মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।