বগুড়া: জিনের বাদশা বা অলৌকিক ক্ষমতার ডাক দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চক্রের এক সদস্য মহিদুল ইসলাম (৩৫) ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে সোনাতলা উপজেলার রানীরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাহারে বাদী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার মোমিনুর রহমান জানান, মহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ‘জিনের বাদশা’ বা প্রতারক কবিরাজ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষকে অর্থ ও মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নিচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, শিবগঞ্জের মহাস্থান এলাকায় সম্প্রতি বাদীর সঙ্গে মহিদুলের পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখে।
বাদী মোমিনুর রহমান জানান, ৭ সেপ্টেম্বর আসর নামাজের পর তিনি বাইরে যান। রাত ১০টার দিকে তার মেয়ে জানায়, মহিদুলের বাড়িতে একটি ইসলামী অনুষ্ঠান চলছে। এরপর বাদী ও আরও চারজন রাত সোয়া ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছান। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরের দিন খাবারে ওষুধ, কেমিক্যাল বা ঝাড়ফুঁক মিশিয়ে তাকে অসংলগ্ন করে ফেলে, যাতে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হন। পরিবার থেকে ফোনে ঘরে ফেরার পরামর্শ পেলেও তিনি সাত দিন ধরে বাড়ি ফেরেননি।
এই সময় আসামিরা নগদ এবং বিকাশের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ৪ ডিসেম্বর মোমিনুর রহমান সোনাতলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে ডিবি পুলিশ তৎপরতা বাড়িয়ে মহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ নিম্নলিখিত আলৌকিক ও জাদুকরী সামগ্রী উদ্ধার করে:
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|
| মানুষের হাড় | ২টি |
| সুরমাদানি | ২টি |
| লাল কাপড় | ৩টি |
| আতর | ১টি |
| তাবিজ | ২টি |
| সাদা কাপড় | ৩টি টুকরো |
| বড় তসবিহ | ৩টি |
| আগরবাতি | ৫টি |
| কালো সুতা | ১টি |
জিজ্ঞাসাবাদে মহিদুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, তিনি অলৌকিক ক্ষমতার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করতেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে শাজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার প্রেক্ষিতে মহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার সহযোগীদের খোঁজে অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার কারণে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানুষকে বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক ভরসার মাধ্যমে প্রতারণা করা এই ধরনের চক্রের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই সচেতনতা ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, কেউই অজানা ব্যক্তি বা কবিরাজের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ বা মূল্যবান জিনিস দেওয়ার আগে সতর্ক হোক এবং প্রমাণসহ অভিযোগ জানাতে দ্বিধা করবেন না।
