দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের ফুলবাড়ী শহরে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও নির্মাণ হয়নি কোনো বাস টার্মিনাল বা যাত্রীছাউনি। এতে প্রতিদিন রাস্তার ওপর বাসের যাত্রী ওঠা-নামা, ট্রাক থেকে পণ্য ওঠানামা এবং অটোরিকশাসহ ছোট পরিবহনের বিশৃঙ্খল চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। পথচারী, শিক্ষার্থী এবং জরুরি কাজে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফুলবাড়ী শহরের মধ্য দিয়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক এবং পণ্যবাহী যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করলেও শহরে কোনো বাস টার্মিনাল নেই। ফলে রাস্তার ওপরেই বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয় এবং পণ্য লোড-আনলোড করা হয়, যা যানজট সৃষ্টি করছে। এছাড়া ফুটপাতও দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের সড়ক পারাপারে চরম কষ্ট হচ্ছে।
ফুলবাড়ী শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে নিমতলা মোড়, নৈশকোচ কাউন্টারের সামনে এবং বটতলি মোড়ে রাস্তার ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়, যার কারণে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় যানজটের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ফুলবাড়ী থানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৩ জন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় মেহেদী হাসান বলেন, “যানজটের কারণে প্রতিদিনই সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার কোথাও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যদি একটা টার্মিনাল থাকতো, তাহলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যেত।”
দিনাজপুর মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ফুলবাড়ী স্ট্যান্ড শাখার সভাপতি মহসীন আলী সরকার বলেন, “আমাদের এক একর জায়গা রয়েছে, তবে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। যদি সরকার ওই জায়গায় বাস টার্মিনাল নির্মাণ করে, তাহলে যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা এবং শহরের যত্রতত্র দূরপাল্লার যানবাহন দাঁড়ানো বন্ধ হয়ে যাবে।”
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসাহাক আলী বলেন, “এটি একটি জটিল সমস্যা। দূরপাল্লার কোচগুলোর দাঁড়ানোর নির্দিষ্ট স্থান নেই। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং যদি তারা উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”
