ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পুলিশের অভিযানে একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল, পেট্রল ও হাতবোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বোমা তৈরির কাজে সরাসরি জড়িত তিনজন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে এই অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী টিটু সরদারের বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ওই বাড়িতে অবৈধ বিস্ফোরক তৈরি করা হচ্ছে এবং আসন্ন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের পর ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে বোমা তৈরির কাজে ব্যস্ত অবস্থায় তিন যুবককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজ ইসলাম (২৫), রাকিব (২৪) ও জিয়াউর রহমান (২৮)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা সম্ভব হয়। পরে বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে বিপজ্জনক বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কর্মসূচির সময় সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব ককটেল ও পেট্রল বোমা প্রস্তুত করা হচ্ছিল। উদ্ধারকৃত আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়ে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টি জানতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করি। সময়মতো অভিযান চালাতে না পারলে বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারত। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা ককটেল, পেট্রল বোমা ও হাতবোমা তৈরির সরঞ্জামের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যেখান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি প্রবাসী টিটু সরদারের মালিকানাধীন। তবে তিনি বর্তমানে দেশে নেই। বাড়িটি কীভাবে এবং কারা ব্যবহার করছিল, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি আটক তিন যুবকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অর্থের উৎস এবং তারা কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা থাকায় বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম অভিযান পরিচালনার ফলে সম্ভাব্য অনেক নাশকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। ভাঙ্গার এই অভিযান তারই একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
স্থানীয়দের মতে, ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের মতো তুলনামূলক শান্ত এলাকায় এ ধরনের বোমা তৈরির ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা বলেন, দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দোষীদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
