প্রবাসীর বাড়িতে চাঁদা ও ককটেল হুমকি

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সহগলপুর গ্রামে একটি প্রবাসীর বাড়ির সামনে চাঁদা দাবি সংবলিত একটি চিরকুট এবং দুটি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তা না দিলে প্রবাসী ও তার সম্পত্তি ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিঠুন হোসেন নামের এই ব্যক্তি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি নিজ গ্রামে একটি বিল্ডিং নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন। রোববার ভোরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গেটের সামনে দুটি ককটেল এবং একটি চিরকুট দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা বিষয়টি গাংনী থানায় জানায়।

চিরকুটে হুমকিস্বরূপ লেখা ছিল:

“শ্রদ্ধেয় মামা, সালাম নিবেন। আশা করি ভালোই আছো। বিল্ডিং অনেক সুন্দর হয়েছে, অনেক টাকা খরচ তাই না। এলাকার বড় ভাইদের মিষ্টি দিলেন না, তাই আমরা স্পেশাল মিষ্টি পাঠালাম। আমাদের মিষ্টি খাওয়ার জন্য এই নম্বরে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেবেন। টাকা না দিলে ছেলে ও বিল্ডিং দুটোই হারাবেন।”

ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাংনী থানার ধলা পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল লাল স্কচটেপে মোড়ানো দুটি ককটেল এবং চিরকুট উদ্ধার করে। ককটেল দুটি নিরাপত্তার স্বার্থে পানি ও বালুভর্তি পাত্রে রাখা হয় এবং থানায় নিয়ে আসা হয়।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো সন্দেহজনক বিষয় দেখলে অবিলম্বে থানায় জানাতে হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সহগলপুর গ্রামে এমন ঘটনা বিরল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার অন্যান্য প্রবাসীদের বাড়িতেও নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে স্থানীয় সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তা থাকতে পারে। প্রবাসী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংক্ষেপে বিষয়টি নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
ঘটনা স্থানসহগলপুর গ্রাম, গাংনী উপজেলা, মেহেরপুর
আক্রান্ত ব্যক্তিমিঠুন হোসেন, সিঙ্গাপুর প্রবাসী
উদ্ধারকৃত সামগ্রী২টি ককটেল, ১টি চিরকুট
চাঁদা দাবি১,৫০,০০০ টাকা
হুমকির ধরনপ্রাণনাশ ও সম্পত্তি ধ্বংসের হুমকি
পুলিশ পদক্ষেপউদ্ধারকৃত সামগ্রী থানায় সংরক্ষণ, তদন্ত চলছে
পুলিশ কর্মকর্তাওসি উত্তম কুমার দাস

পুলিশ আরও জানিয়েছেন, প্রবাসী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে নিয়মিত চেকপোস্ট, বাড়ির সিসিটিভি পরিদর্শন ও বিশেষ টহল দল কার্যক্রম চালানো হবে।