উখিয়ায় অবৈধ রোহিঙ্গা বসতি অভিযান

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কক্সবাজারের উখিয়ায় সেনাবাহিনী নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অবৈধভাবে ক্যাম্পের বাইরে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। রোববার ভোররাতে পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ও আশপাশের এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে প্রাথমিকভাবে অন্তত ১,০০০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। অভিযান এখনও চলমান রয়েছে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য এলাকায়ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যৌথবাহিনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত এবং নির্বিঘ্ন নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অভিযানের সময় দেখা গেছে, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্প প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পরিবারসহ অবৈধভাবে বসবাস করছিল। যৌথবাহিনী আটককৃতদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে।

উখিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় যৌথবাহিনী স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অভিযান পূর্ববর্তী অভিযানগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে চট্টগ্রামের দোহাজারির বার্মা কলোনী ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গাকে আটক করা হয় এবং পরে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদার করতে যৌথবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অভিযানের লক্ষ্য নির্বাচনী এলাকা ও আশপাশের অঞ্চলে অযাচিত ও অবৈধ বসতি নির্মূল করা, যাতে ভোটের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ও পূর্ববর্তী অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

অভিযান তারিখএলাকাআটক রোহিঙ্গা সংখ্যাকার্যক্রমের বিবরণ
রোববার ভোররাতবালুখালী ও আশপাশ১,০০০+ক্যাম্পের বাইরে অবৈধ বসতি বন্ধ করা
পূর্ববর্তী অভিযানবার্মা কলোনী, দোহাজারি৫০০+আটককৃতদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো

যৌথবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, ধীরে ধীরে আরও কিছু এলাকায় অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনের আগে সব অবৈধ বসতি সনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনা হলে ভোটের সময় সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও যৌথবাহিনী নির্বাচনী এলাকা এবং আশেপাশের অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।