প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচারের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাপ হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের লক্ষ্যে দেশের সব জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে সকাল ৯টায় উপজেলা মিলনায়তনে তার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিট পরই মিলনায়তনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও আকস্মিক এ ঘটনায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়ে এ কারণে যে, ওই সময় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল বলে জানা যায়। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটটি কেবল অনুষ্ঠানস্থলেই ঘটেছিল।
ঘটনার পরদিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসানের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে মো. আলতাপ হোসেনকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা জানানো হয়।
একই আদেশে তাকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংযুক্ত দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্বের সঙ্গে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাও দেওয়া হয়।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাইসুল ইসলাম বলেন, তিনি আগে থেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এরপরও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলার সময় হঠাৎ অনুষ্ঠানস্থলের বিদ্যুৎ চলে যায়। তবে উপজেলা পরিষদের অন্য জায়গাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল।
রাইসুল ইসলামের ধারণা, বিষয়টি মূলত যোগাযোগের ঘাটতির কারণে ঘটতে পারে। পরে তিনি জানতে পারেন, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বরিশাল জোনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জিএম মো. কামরুজ্জামান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে একটি ভুল বোঝাবুঝির কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএনও কার্যালয়ে বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানরা সেখানে যান।
কর্মীদের ধারণা ছিল, ওই ইউএনও কার্যালয়েই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সে অনুযায়ী তারা সংশ্লিষ্ট লাইন বন্ধ করে দেন। কিন্তু এর ফলে ভুলবশত অনুষ্ঠানস্থল উপজেলা মিলনায়তনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিষয়টি বুঝতে পারার পরই স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জকে ফোন করে জানানো হয় বলে জানান কামরুজ্জামান। তার তথ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রায় দুই মিনিট বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। সকাল ৯টা ৪২ মিনিট থেকে ৯টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর তা পুনরায় চালু করা হয়।
কামরুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তার ধারণা, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই জিএম মো. আলতাপ হোসেনকে বরিশাল জোনের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মূলত সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালে নির্ধারিত স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোথায় অনুষ্ঠান হচ্ছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর জেরেই অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরবর্তী সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।








