বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে গৌরীপুর পৌর শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লার ঝলক পূজামণ্ডপ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সঞ্জীব চৌহান ওই মহল্লার শ্যামলাল চৌহানের ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে দুই সন্তান বাবাকে হারিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর পৌর শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লায় ‘ঝলক মাস্টারপাড়া’ পূজা কমিটির উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। বুধবার রাতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি চলছিল। এ জন্য প্রতিমা ট্রাকে তুলে পাশের রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন অনন্ত সাগর পুকুরঘাটে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিমাবাহী ট্রাকটি পূজামণ্ডপ থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তার ওপর একটি বৈদ্যুতিক তার ঝুলে থাকতে দেখা যায়। ট্রাক চলাচলের পথ পরিষ্কার করতে সঞ্জীব চৌহান হাত দিয়ে তারটি সরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই তাঁকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী শীলা চৌহান। স্বামীর সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হওয়ার সময় স্বামী বলল, দেবী বিসর্জনে যাবা না? আমি বললাম, যাব। এটাই ছিল তার সঙ্গে শেষ কথা। এরপর রাতে স্বামীর বিদ্যুৎস্পর্শের খবর পাই। আমার দুইটা সন্তান বাবাহারা হয়ে গেল।’
পূজার আনন্দঘন আয়োজনের মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সঞ্জীবের পরিবারের ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক। বিসর্জনের কাজে অংশ নিতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় উৎসবের শেষ মুহূর্তটি পরিবারের কাছে বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
ঝলক মাস্টারপাড়া পূজা কমিটির সভাপতি অজিত চৌহান জানান, সঞ্জীব তাঁদের পূজা কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য মণ্ডপ থেকে ঘাটে নেওয়ার সময় রাস্তার ওপর ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার সরাতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
এ ঘটনায় পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ সংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন পূজা কমিটির সভাপতি।
অজিত চৌহানের দাবি, মণ্ডপের বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ লিকেজ থাকার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আগে থেকে তারের অবস্থা পরীক্ষা করা হলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।
তবে বৈদ্যুতিক তারে ত্রুটি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও অবহেলা দায়ী কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, পূজামণ্ডপ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমা বিসর্জনের মতো আয়োজনে বৈদ্যুতিক তার, অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ ও আলোকসজ্জার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রতিমাবাহী উঁচু যানবাহন চলাচলের পথে ঝুলন্ত তার থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা ছাড়া বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
গৌরীপুরের এ ঘটনায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে পূজা কমিটির পক্ষ থেকে তোলা অবহেলার অভিযোগের যথাযথ তদন্তের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।









