জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, সাবেক ছাত্রদল নেতা আটক

মাগুরা শহরে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগে মাগুরা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈমুজ্জামান নয়নকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাইক্রোবাসকে সাইড না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ঘটনাটি ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে মাগুরা শহরের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সেখানে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেন মোটরসাইকেলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মাগুরা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা নাঈমুজ্জামান নয়ন তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার ধারণ করা এক মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে বসে থাকা ইমরান হোসেনকে দুই পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই পরপর চড়-থাপ্পড় মারছেন নয়ন। ঘটনার সময় তিনি নিজ মোবাইল ফোনেও ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে নয়ন আশপাশের লোকজনকে সেখানে আসার আহ্বান জানান এবং ইমরান হোসেনের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেন। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাগুরা সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক শরিফুল ও সহকারী উপপরিদর্শক মাসুদ নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাবি নেওয়ার বিষয়ে বাধা দেন।

এ নিয়ে নয়নের সঙ্গে থাকা মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনের সঙ্গে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নয়ন মোটরসাইকেলে বসে থাকা ইমরান হোসেনকে পরপর দুটি চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় নাঈমুজ্জামান নয়নকে সদর থানায় নেওয়া হয়। তবে কিছু সময় পর মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।

এরপর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। শনিবার দুপুরে পুলিশ নয়নকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায় এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আটকের আগে নিজের বক্তব্যে নয়ন ঘটনার একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ঠিকাদারি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শহরের ঢাকা রোডের কাঁচাবাজার এলাকায় যানজটে পড়েন তিনি। সামনে থাকা পুলিশ সদস্যকে কয়েকবার হর্ন দেওয়ার পরও তিনি সাইড না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পুলিশ সদস্যটি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করায় তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তাঁকে একটি থাপ্পড় দিয়েছেন বলে দাবি করেন নয়ন।

এদিকে হামলার শিকার পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেন বাদী হয়ে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় নাঈমুজ্জামান নয়নসহ এজাহারভুক্ত চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন নাঈমুজ্জামান নয়নের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে রোববার আদালতে উপস্থাপন করা হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ্যে একজন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামলার পর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । GLive24.com

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর