পাবনা–ঢাকা মহাসড়কের শোলাবাড়িয়া এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে (১০ ফেব্রুয়ারি) দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত আরও দশজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি শোলাবাড়িয়া সেতুর কাছে ঘটেছে।
মাধপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মুস্তফিজার রহমান নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত আশপাশের হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে আরেকজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শাহজাদপুর ট্রাভেলসের বাসের চালক এবং মচরঙ্গা পরিবহনের গাড়ির সহকারী। আহতদের মধ্যে সাত থেকে আটজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর ট্রাভেলসের বাসটি পাবনা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অপর দিকে মচরঙ্গা পরিবহনের বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসছিল। দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে যান চলাচল এক ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকায় সড়কে জট সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ও সেতু ও সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
স্থানীয়রা জানায়, শোলাবাড়িয়া সেতু এবং ওই মহাসড়কের কিছু বাঁকা অংশে গত কয়েক মাসে মুখোমুখি দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নিরাপত্তা সতর্কতা অবহেলা এবং সড়কের চিহ্নের অভাব এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা কর্তৃপক্ষকে কড়াকড়ি ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছেন।
নিচের টেবিলটি দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ ও সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:১৫ |
| স্থান | শোলাবাড়িয়া সেতু, সাথিয়া, পাবনা |
| বাস অপারেটর | শাহজাদপুর ট্রাভেলস, মচরঙ্গা পরিবহন |
| নিহত | ২ (চালক ও সহকারী) |
| আহত | কমপক্ষে ১০ |
| গুরুতর আহত | ৭–৮ |
| উদ্ধারকারী | পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল |
| হাসপাতালে স্থানান্তর | পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও অন্যান্য |
পাবনা জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়রা সেতু ও বাঁকপুর্ণ সড়কে সিগনেজ, স্পিড মনিটরিং এবং অবকাঠামোগত উন্নতির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
