পাকিস্তানের ‘দরদ’ নিষ্প্রয়োজন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে হামিন আহমেদের কড়া বার্তা

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে যখন গভীর অনিশ্চয়তা ও কূটনীতির লড়াই চলছে, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাহসী অবস্থানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও ক্রিকেট অনুরাগী হামিন আহমেদ। নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বিসিবি যে সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে, তাকে পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের অযাচিত প্রস্তাব ও আইসিসির লুকোছাপা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই তারকা।

বিসিবির অনড় অবস্থান ও হামিনের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, খেলোয়াড়দের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ভারতে কোনো ম্যাচ খেলবে না। আইসিসি বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। বিসিবির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মাইলস ব্যান্ডের জনপ্রিয় সদস্য হামিন আহমেদ ফেসবুকে লেখেন, “বিসিবি চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ভারতে একেবারেই খেলবে না। সিদ্ধান্ত যখন হয়েই গেছে, তখন এখন বাংলাদেশের উচিত সব ম্যাচ নিজেদের দেশেই খেলার দাবি তোলা।”

পাকিস্তানের ‘উদারতা’ ও ইমরান খান প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে আয়োজন সম্ভব না হলে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান তাদের দেশে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল। পাকিস্তানের জিও টিভি জানিয়েছিল যে, শ্রীলঙ্কা যদি ভেন্যু দিতে ব্যর্থ হয়, তবে পিসিবি বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দিতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের এই ‘দরদ’ বা প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন হামিন। তিনি পাকিস্তানকে ‘গণহত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, “আমাদের প্রতি পাকিস্তানের কোনো ‘উদারতা’র প্রয়োজন নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, যে দেশটি তাদের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে এবং যেখানে বর্তমান সরকার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ আছে, সেই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনোভাবেই নির্ভরযোগ্য নয়। অর্থনৈতিক ও র‍্যাঙ্কিংয়ের বিচারেও পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে ম্যাচ আয়োজনের যৌক্তিকতা

হামিন আহমেদ মনে করেন, বিকল্প ভেন্যু হিসেবে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার চেয়ে বাংলাদেশেই খেলা আয়োজন করা সবচাইতে যুক্তিযুক্ত। তিনি বিসিবি ও বর্তমান ক্রীড়া উপদেষ্টাকে আইসিসির সাথে আরও জোরালো দরকষাকষি করার আহ্বান জানান। নিচে বাংলাদেশ কেন আদর্শ ভেন্যু হতে পারে, তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

মানদণ্ডবাংলাদেশের বর্তমান সক্ষমতাআয়োজক হিসেবে রেকর্ড
অবকাঠামোআন্তর্জাতিক মানের ৫টি স্টেডিয়াম প্রস্তুত।২০১১ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের সফল আয়োজন।
দর্শকবিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ক্রিকেট পাগল জাতি।গ্যালারি পূর্ণ উন্মাদনা।
পরিবহন ও আবাসনউন্নত মানের পাঁচ তারকা হোটেল ও কানেক্টিভিটি।এশিয়া কাপের নিয়মিত আয়োজক।
নিরাপত্তাভিভিআইপি পর্যায়ের নিরাপত্তা প্রটোকল।বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার নজির নেই।
আইসিসি র‍্যাঙ্কিংটি-টোয়েন্টিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি।বিশ্ব আসরে সমীহ জাগানিয়া দল।

আইসিসির চিঠির স্বচ্ছতা দাবি

হামিন আহমেদ তার পোস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন—আইসিসির পাঠানো চিঠির গোপনীয়তা। তিনি দাবি করেন, আইসিসি বিসিবিকে যে শর্তগুলো দিয়েছে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের জানার অধিকার আছে যে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশের সাথে কী আচরণ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি বিসিবি ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হন, তবে এর পূর্ণ দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

সবশেষে হামিন আহমেদের দাবি পরিষ্কার—লড়াকু বাঘের মতো মাথা উঁচু করে নিজেদের মাঠেই বিশ্বকাপের আসর বসানো হোক, যেখানে কোনো বিজাতীয় ‘উদারতা’র প্রয়োজন পড়বে না।