জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মামলার প্রস্তুতির জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন। অভিযোগ গঠন শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি এসব আবেদন জানান।
আদালতের কাছে পলক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত আধা ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে চলমান মামলাগুলোর আইনি প্রস্তুতি, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতিও চান তিনি। তবে শুনানি শেষে তাঁর এসব আবেদনের বিষয়ে আদালত তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি।
আদালতে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথাও তুলে ধরেন পলক। তিনি জানান, তাঁর ঘাড়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। এমআরআই পরীক্ষায় ঘাড়ের দুটি হাড় স্থানচ্যুত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে বলেও তিনি আদালতকে জানান। চিকিৎসকদের পরামর্শের কারণে বর্তমানে তিনি মাথায় হেলমেটও ব্যবহার করতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন।
পলক আদালতে আরও জানান, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে ৯৮টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁকে মোট ৮৯ দিন রিমান্ডে থাকতে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মধ্যে তিনটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এতগুলো মামলায় একসঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলায় আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ ও মামলার প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি আদালতের কাছে তুলে ধরেন।
এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে অন্তত আধা ঘণ্টা সময় দেওয়ার আবেদন করেন পলক। পাশাপাশি আইনজীবীদের সঙ্গে প্রতি দুই সপ্তাহে দুই দিন বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছেন তিনি। তাঁর আবেদনে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিরা নির্দিষ্ট বিরতিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে পলকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান থাকায় এসব মামলার প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আইনগত পরামর্শের জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাড়ি ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহত মো. হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের আওতায় নেওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এই পর্যায়েই পলক আদালতের কাছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ চাইলেন। তাঁর আবেদনে একদিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে একাধিক মামলায় চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত সময় এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আদালত এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে পলকের আবেদন মঞ্জুর হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশের অপেক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য