খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৯:৩২ পিএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নেশার টাকা না পেয়ে নিজের জন্মদাতা বাবাকেই করাত দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালানোর এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদকাসক্ত যুবক মিরাজ আলীকে (২৪) এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং সাজা প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ আলী পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ছেলে মিরাজ আলীর দীর্ঘদিনের বেপরোয়া মাদকাসক্তি এবং একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তার বাবা জাহিদুল ইসলাম। বাধ্য হয়ে তিনি প্রতিকার চেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জাহিদুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ছেলে মিরাজ দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত মাদক সেবন করে আসছে। নেশার কারণে সে চুরি, মারামারি এবং পারিবারিক চরম অশান্তিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য একাধিকবার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রেও পাঠিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ফিরে এসে মিরাজ আবারও সেই পুরানো মাদকের ভয়াল জগতে ফিরে যায়। নেশার টাকার সংস্থান করতে সে প্রায়ই ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিত। এমনকি আশপাশের মানুষের বাড়িতে চুরির মতো অপরাধে লিপ্ত হতো। এসব অপকর্ম এবং নেশার টাকা চাওয়ায় কেউ বাধা দিলে সে পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হতো, শারীরিক নির্যাতন চালাত এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দিত। মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণে এর আগেও গাঁজা বিক্রির অপরাধে দুইবার তাকে জেল খাটতে হয়েছে। নেশা ও পারিবারিক কলহের ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান।
সর্বশেষ গত ২২ জুলাই (বুধবার) তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাড়িতে ঝগড়া শুরু করে মিরাজ। এ সময় বাবা জাহিদুল ইসলাম এগিয়ে গিয়ে ঝগড়ার কারণ জানতে চাইলে মিরাজ মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে মুহূর্তের মধ্যে ঘর থেকে একটি ধারালো করাত এনে বাবার গলায় ধরে জবাই করার চেষ্টা চালায়। জাহিদুলের চিৎকার শুনে মিরাজের মা সন্তানকে থামাতে ছুটে এলে মিরাজ তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাবা-মা কোনোমতে সেখান থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে রক্ষা পান।
অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা পুলিশ বাহিনী নিয়ে সরজমিনে সেখানে যান। বিচার চলাকালীন মিরাজ সবার সামনেই নিজের মাদক সেবনের কথা অকপটে স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার শোবার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। নিজের দোষ স্বীকার, উদ্ধার হওয়া মালামাল এবং ঘটনা পর্যবেক্ষণের পর আদালত তাকে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা জানান, সন্তান কর্তৃক বাবাকে হত্যাচেষ্টার মতো একটি গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সশরীরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা দেখতে পান। এরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাজ থেকে মাদক, পারিবারিক নির্যাতন ও সার্বিক বিশৃঙ্খলা দূর করতে আগামী দিনেও এই ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য