নোয়াখালীতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে ইমাম আটক

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে স্থানীয়রা এক মসজিদের ইমামকে আটক করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা ওই ছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ছাত্রীটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের জানা যায়, একই এলাকার এক মসজিদের ইমাম তাকে নিয়ে পালিয়েছেন। পরে অভিযুক্তের অবস্থান চট্টগ্রাম থেকে সনাক্ত করে ছাত্রীর স্বজনরা তাকে আটক করে বাড়িতে ফেরত নিয়ে আসেন।

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তথ্যগুলো টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
অভিযুক্তের নামমাওলানা আব্দুল করিম
বয়স৩৫ বছর
পেশাইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক
অবস্থানসোনাদিয়া চৌররাস্তা বাজার, নোয়াখালী হাতিয়া
ছাত্রীস্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী
ঘটনাকিশোরীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ
গ্রেপ্তারের স্থানচট্টগ্রাম থেকে স্বজনরা আটক করে স্থানীয় চর চেঙ্গা বাজারে আনা
নিরাপত্তা ব্যবস্থাবাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান-এর বাসায় রাখা

স্থানীয় চর চেঙ্গা বাজারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান জানান, “মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক নয়, তাই তার সকল বিষয় অভিভাবকরা বিবেচনা করবেন। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে এখনও নাবালিকা। তাকে ভুল বোঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে। একজন ধর্মীয় দায়িত্বশীল মানুষ থেকে আমরা কখনো এমন আচরণ আশা করিনি। আমি চাই, আমার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল করিম দাবি করেছেন, “আমার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমি জোর করে তাকে নিয়ে যাইনি। তবে লোকজন আমাকে নির্যাতন করেছে।”

জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম জানান, “এলাকার কয়েকজন মোবাইলে বিষয়টি জানিয়েছেন, কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। মেয়ের বাবাকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপে ন্যায়বিচার হবে।