নোয়াখালীর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তালা ভেঙে প্রবেশ এবং দলীয় ব্যানার টাঙানো ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে সুধারাম থানা পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দৃশ্যমান, কাদির হানিফ ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৭টায় কাদির হানিফ ইউনিয়নের কিছু নেতাকর্মীর নেতৃত্বে এই ঘটনা সংঘটিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল নেতা ও কর্মী মূল ফটকের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা কার্যালয়ের ভিতরে বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দেন এবং সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানকে অভিনন্দন জানিয়ে স্লোগান দেন। তবে জেলা পর্যায়ের কোনো শীর্ষ নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | অবস্থান/গ্রাম |
|---|---|---|
| মো. সফিকুল ইসলাম নাজিম | ৪৩ | কাদির হানিফ ইউনিয়ন |
| মো. কাউছার হামিদ | ৩৮ | কাদির হানিফ ইউনিয়ন |
| মো. জিয়াউল রহমান রাসেল | ৪৮ | কাদির হানিফ ইউনিয়ন |
| মো. আবু সাঈদ | ৫৫ | কাদির হানিফ ইউনিয়ন |
| বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল | ৪৯ | কাদির হানিফ ইউনিয়ন |
ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুনরায় তালা লাগানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কাউকে ছাড়পত্র বা জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, বুধবার বিকাল ৫টায় জেলা শহরের মাইজদী এলাকায় ‘জুলাই ঐক্য’ নামের একটি সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে। তারা কার্যালয় দখলের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার পর স্থানীয় স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কার্যালয় দখলের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রশাসনের সজাগ নজর রাখা প্রয়োজন।
পুলিশ সদর দফতর নির্দেশ দিয়েছে, নোয়াখালী শহর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি উপস্থিতি রাখতে এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে। এতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ বা বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
মোটদাগে, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় দখলের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। প্রশাসনের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আচরণ আগামী দিনগুলোতে এলাকায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
