নোয়াখালীকে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও জোরালো জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে রবিবার দুপুরে জেলা শহর মাইজদীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নোয়াখালী একটি ঐতিহাসিক, জনবহুল ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় জেলা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অবহেলার শিকার। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বক্তারা স্পষ্টভাবে জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই নোয়াখালীকে প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণা করে তা কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি আদায়ে প্রয়োজনে জলপথ ও স্থলপথ অবরোধ, গণঅনশন এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে। তাঁদের মতে, নোয়াখালী বিভাগের দাবি কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয় নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্ন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি সাইফুর রহমান রাসেল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “নোয়াখালীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক সেবায় আমরা পিছিয়ে আছি। বিভাগ ঘোষণার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো সহজ হবে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মো. জহিরুল ইসলাম কাউসার। তিনি বলেন, “নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি এ অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সরকার যদি সত্যিই সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাস করে, তবে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা করতে আর দেরি করা উচিত নয়।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফরহাদুল ইসলাম পাভেল, নোয়াখালী সংস্কার ফোরামের সভাপতি আম মাহমুদ, নিরাপদ নোয়াখালী চাই–এর সুবর্ণচর শাখার সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সিনিয়র মুখপাত্র আপন আহমেদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, নোয়াখালী অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদ, মানবসম্পদ ও প্রবাসী আয়—সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ প্রশাসনিকভাবে বিভাগ না হওয়ায় এখানকার মানুষকে চট্টগ্রাম কিংবা অন্য বিভাগে নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, নোয়াখালী বিভাগ হলে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনীসহ আশপাশের জেলাগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নতুন বিভাগ গঠনের মাধ্যমে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং তরুণ প্রজন্ম নিজ এলাকাতেই উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাবে।
নিচে নোয়াখালী বিভাগ দাবির মূল যুক্তিগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দাবি | নোয়াখালীকে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণা |
| প্রধান উদ্দেশ্য | প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন |
| আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম | নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ |
| কর্মসূচির স্থান | মাইজদী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার |
| প্রধান দাবি বাস্তবায়নের সময়সীমা | আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে |
| সম্ভাব্য কর্মসূচি | অবরোধ, রেমিট্যান্স শাটডাউন, গণআন্দোলন |
| উপকারভোগী অঞ্চল | নোয়াখালী ও পার্শ্ববর্তী জেলা |
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নীতিনির্ধারকরা নোয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। একই সঙ্গে বক্তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে তারা প্রস্তুত।
