২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ৮ তারিখ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেদে নেপাল প্রায় “অসাধ্য” করে তুলতে পারত, তবে শেষ মুহূর্তে ইংল্যান্ডের সামনে হার মানল। বিশ্ব ক্রিকেটের মধ্যমার্গের দল হিসেবে নেপাল আবারও প্রমাণ করল যে তারা কোনো সাধারণ দল নয়। এই ম্যাচে শেষ ওভারে ১০ রান দরকার ছিল এবং শেষ বলেই ছক্কার জন্য ব্যর্থ হওয়ায় নেপাল ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র চার রানে হেরেছে।
নেপালের খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডের দুইবারের টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, জোফরা আর্চারকে তারা মাত্র এক ওভারে ২২ রান দিয়েছে, যা আর্চারের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অন্যতম দুর্বল ওভার। পরের ওভারে লুক উডের বিরুদ্ধে ১৪ রান এসেছে। এই ধাক্কা নেপালের জন্য শেষ ওভারে ১০ রান করা অনেক সহজ মনে হচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তের চাপ ও স্যাম কারানদের নিখুঁত ইয়র্কার পরিকল্পনা নেপালের স্বপ্ন ভঙ্গ করেছে।
নন্দন যাদব, নেপালের অন্যতম উজ্জ্বল বোলার, ম্যাচ শেষে বলেন, “গর্ব ও আফসোস—উভয় অনুভূতি একসাথে। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে আমরা এতটা কাছে গিয়েছি। তাই আমাদের জন্য এটা ৫০-৫০, গর্বও এবং আফসোসও।”
ইংল্যান্ড দলের উইল জ্যাক্স, যিনি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন, বলেন, “ম্যাচে জয় আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল, এবং আমরা তা অর্জন করেছি। প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য এটি একটি বড় শিক্ষণীয় ম্যাচ।”
নেপাল স্কোর তালি দিয়ে খেলেছে: অধিনায়ক দীপেন্দ্র সিং আইরে ৪৪, রোহিত পাউডেল ৩৯, লোকেশ বাম ৩৯, কুশল ভুর্টেল ২৯। এদিকে নেপাল আগামী তিনটি ম্যাচে ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে।
নেপাল ক্রিকেটের বৃদ্ধিও চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) অ্যাসোসিয়েট মেম্বার, ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ণ সদস্য হওয়ার লক্ষ্য রাখছে। ইতিমধ্যে তারা তিন দিনের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট চালু করেছে এবং আইসিসিকে ফার্স্ট-ক্লাস স্ট্যাটাস দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
নেপালের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জনও রয়েছে: গত বছর শারজাহতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো, দীপেন্দ্র আইরে বিশ্ব দ্রুততম T20I অর্ধশতক রেকর্ড রাখা, এবং বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে উত্সাহী ভক্তদের একটি সমর্থক দল থাকা। ওয়াংখেদে প্রায় ১৭,০০০ সমর্থক নেপালের পক্ষে চিৎকার করেছেন, এমনকি ইংল্যান্ডের কিছু সমর্থকও নেপালের পক্ষে কাঁধ চাপিয়েছেন।
ম্যাচের মূল তথ্য
| বিষয় | নেপাল | ইংল্যান্ড |
|---|---|---|
| স্কোর | ১৮১/৬ | ১৮৫/৫ |
| অধিনায়ক | দীপেন্দ্র সিং আইরে | হ্যারি ব্রুক |
| সর্বোচ্চ স্কোরার | দীপেন্দ্র সিং আইরে (44) | উইল জ্যাক্স (51) |
| ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় | — | উইল জ্যাক্স |
| গুরুত্বপূর্ণ ওভার | জোফরা আর্চার: ২২ রান | শেষ ওভার: ২০ রান |
| ফলাফল | হেরেছে মাত্র ৪ রানে | জয় পেয়েছে ৪ রানে |
নেপাল এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়েছে যে তারা বিশ্বের বৃহত্তম দলগুলির সঙ্গে সমান লড়াই করতে পারে। ভবিষ্যতের সুপার ৮’র জন্য এখনও তাদের আশা রয়েছে।
