নেপালে বাস দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত

নেপালের পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় এক ব্রিটিশ পর্যটকসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঘটে, যখন একটি যাত্রীবাহী বাস পর্যটননগরী পোখারা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ধাদিং জেলার দুর্গম পাহাড়ি পথে চলাচলের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে প্রায় ২০০ মিটার (৬৫৫ ফুট) গভীর খাদে পড়ে যায় এবং নিচে বয়ে যাওয়া ত্রিশুলি নদীতে তলিয়ে যায়। নদীটি ওই সময় বরফশীতল স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তোলে।

ধাদিং জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ দাহাল জানান, বাসটিতে মোট ৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত ২৫ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজন চীনা ও একজন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোহন প্রসাদ নুপান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভোরের মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়। নদীর তীব্র স্রোত ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে উদ্ধার কাজে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় উদ্ধারকারীদের।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপালের পাহাড়ি সড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতি, রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

নিচে দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার তারিখ২৩ ফেব্রুয়ারি
স্থানধাদিং জেলা, ত্রিশুলি নদী
যাত্রাপথপোখারা থেকে কাঠমান্ডু
মোট যাত্রী৪৪ জন
নিহত১৯ জন
আহত২৫ জন
বিদেশি নাগরিকনিহত ১ (ব্রিটিশ), আহত ২ (চীনা, নিউজিল্যান্ড)
খাদে পড়ার গভীরতাপ্রায় ২০০ মিটার

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নেপাল সরকার। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।