দেশে মাদক এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক দিনদিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১০–১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অপরাধমূলক আচরণের মূল উৎস মাদক। মাদকাসক্তদের মধ্যে হিংসা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পায়।
মাদকাসক্তরা নিজেদের সংযম হারিয়ে ফেলে। তারা কখনো কখনো ঘৃণ্যভাবে মানুষকে হত্যা করে এবং হত্যার পরও কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করে না। রংপুরে আশরাফুল হত্যাকাণ্ড, চাঁদপুরের পারিবারিক হত্যার ঘটনা এবং খুলনার শহরের গোলাগুলি-ঘটনা স্পষ্ট উদাহরণ। এইসব ঘটনায় মাদকের সরাসরি প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা মোবাইলের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি দেখার পাশাপাশি ইয়াবা সেবন করছে। এর ফলে তাদের মানসিক বিকৃতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকাসক্তরা পড়াশোনা ছেড়ে অপরাধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
ড. তৌহিদুল হক বলেন, “দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাদকাসক্ত অবস্থায় প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতা ক্রমশ বাড়ছে। তারা অপরাধের সময় কোনো হিতাহিত জ্ঞান রাখে না।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত দিয়ে প্রচুর ইয়াবা প্রবেশ করছে। রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র মাদক বিস্তার দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তরুণরা মোটরসাইকেল যোগে মাদক সরবরাহ করছে।
মাদক নির্মূলের জন্য রাষ্ট্রের জিরো টলারেন্স কার্যকর করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক নেতা, সমাজ ও পরিবার একত্রে কাজ করলে দেশের নৃশংসতা হ্রাস করা সম্ভব।
