অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কর্মকর্তারা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিদেশে যাওয়া এড়িয়ে চলবেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সম্প্রতি এ নির্দেশনার কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে পরিপত্র পাঠিয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আগের নির্দেশনাগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় কিছু কর্মকর্তার অনির্দিষ্ট ও অতিরিক্ত বিদেশ সফর হয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একই সময়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন এবং এক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা একসাথে বিদেশে যাচ্ছে। এই ধরনের প্রস্তাবনা প্রায়ই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আসছে, যা পূর্বে জারি করা নির্দেশনার পরিপন্থি।
এ কারণে, পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বিদেশে যাওয়া যাবে না। পূর্বে জারি করা সব নির্দেশনাও কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও অর্থ বিভাগের ৮ জুলাইয়ের চিঠিতে ইতোমধ্যেই বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে না। নতুন নির্দেশনাটি সেই নির্দেশনাকে আরও কড়া করার লক্ষ্য নিয়ে জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার কপি নিম্নলিখিত দপ্তর ও কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে:
| কর্তৃপক্ষ / বিভাগ | প্রাপক |
|---|---|
| সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ | সচিবগণ |
| মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ | মন্ত্রিপরিষদ সচিব |
| প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় | একান্ত সচিবগণ ও প্রধান উপদেষ্টা |
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক দায়িত্বে স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনকালীন সরকারি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত এড়ানো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া সীমিত করলে সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি কমে যাবে।
পরিপত্রের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্কও করা হয়েছে যে, নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনকালীন সরকারি কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য হলো:
বিদেশ ভ্রমণে সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করা।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
প্রশাসনিক দায়িত্বে সততা ও নিয়মনীতি বজায় রাখা।
এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের জন্য এখন থেকে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট সচিবের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
