নিউইয়র্কের মেয়র বনাম ইসরায়েল: আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি যুদ্ধ

নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি একটি অস্বাভাবিক ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ব মিডিয়ার নজর কাড়েন। তিনি জানান, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সফর করেন, তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হবে। এই ঘোষণার ভিত্তি হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, যা গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এসেছে।

নেতানিয়াহু অবশ্য এ বক্তব্যকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহরের মেয়রের কি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা আছে, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। আইসিসি রোম সংবিধির অধীনে বিচার পরিচালনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই চুক্তির সদস্য নয়। সংবিধি অনুযায়ী, আদালত শুধুমাত্র সদস্যরাষ্ট্রের নাগরিক বা ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার করতে পারে।

ফিলিস্তিনের ২০১৫ সালের সংবিধি গ্রহণ ও ২০২১ সালের আইসিসি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা আদালতের আছে। ২০২৪ সালে গাজায় অনাহার সৃষ্টির প্রচেষ্টা ও বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার অভিযোগে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

আইসিসির নিজস্ব পুলিশ না থাকায়, গ্রেপ্তারি কার্যকর করতে তারা নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আইসিসির কার্যক্রমকে সীমিত করেছে। এই অবস্থায় সর্বজনীন এখতিয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতের শূন্যতা পূরণ করা যায়। ইতিহাসে অ্যাডলফ আইখমানের ওসমান সোনকোর মামলা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক মর্যাদা আন্তর্জাতিক জবাবদিহি এড়াতে পারে না।

এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও যুদ্ধাপরাধ মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হতে পারে। নিউইয়র্কের মেয়রের ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিকতা ও সর্বজনীন এখতিয়ারকে সমর্থন দেওয়া হলো।