নানান অসঙ্গতি ও অভিযোগের মধ্যেই শেষ হলো রাবির দ্বাদশ সমাবর্তন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনুষ্ঠিত হলো দ্বাদশ সমাবর্তন, যেখানে তিনটি ব্যাচের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি গ্রহণ করেন। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সমাবর্তন ঘিরে ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের আমেজ, আনন্দ, স্মৃতিচারণ—তবে একই সঙ্গে ছিল অব্যবস্থাপনা, অসন্তোষ ও নানা অসঙ্গতির অভিযোগ।

সমাবর্তনের দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে শুরু করেন স্নাতকরা। গাউন ও মর্টারবোর্ড পরিহিত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম, প্যারিস রোড, একাডেমিক ভবন ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, ছবি তোলা ও স্মৃতি ভাগাভাগিতে মেতে ওঠেন অনেকে।

সকাল সাড়ে ৯টায় সাবাস বাংলাদেশ মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে অতিথিদের আসন গ্রহণ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক পর্ব। স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান।

এবারের সমাবর্তনে বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের ৫ হাজার ৬৬৯ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ডিগ্রি উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা এবং সমাবর্তন সভাপতি ও শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. মাঈন উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। পরে দুপুর আড়াইটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দ্বাদশ সমাবর্তনের সংক্ষিপ্ত তথ্য : 

বিষয়তথ্য
বিশ্ববিদ্যালয়রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সমাবর্তনদ্বাদশ
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীপ্রায় ৬,০০০
ডিগ্রি প্রদান৫,৬৬৯ জন
সভাপতিশিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার
সমাবর্তন বক্তাইউজিসি চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ
তারিখবুধবার

তবে এই উৎসবের মাঝেও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ চেয়ারের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল ফাঁকা। ডিগ্রি প্রদান চলাকালে একাংশ শিক্ষার্থী ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, অতিথি নির্বাচনসহ একাধিক দাবিকে উপেক্ষা করেছে প্রশাসন।

স্নাতক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা অতিথি পুনর্বিবেচনাসহ কয়েকটি যৌক্তিক দাবি জানিয়েছিলাম। সেগুলো মানা হয়নি বলেই আমরা মূল অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।”

এদিকে সমাবর্তনে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। যমুনা টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান শিবলী নোমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সব মিলিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন স্মরণীয় হলেও অব্যবস্থাপনা, অসন্তোষ ও সমালোচনার ছায়া পুরো আয়োজনকে আংশিকভাবে ম্লান করে দেয়।