নাটকীয় রাতে শীর্ষে ফিরল পিএসজি

ফরাসি লিগ আঁ-র শিরোপা দৌড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পার্ক দেস প্রিন্সেসে নিজেদের মাঠে দুর্বল প্রতিপক্ষ এফসি মেত্জ-কে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আবারও শীর্ষস্থান পুনর্দখল করেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে শিরোপার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরসি লেন্স-এর অপ্রত্যাশিত হারে।

দিনের শুরুতে পিএসজির চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে ছিল লেন্স। নিজেদের মাঠে তারা দ্বিতীয়ার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত এএস মোনাকো-র কাছে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়। আগস্টের পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে লিগ ম্যাচে হার স্বীকার করে লেন্স, যা শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। এই ফলেই পিএসজির সামনে শীর্ষে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়, এবং তারা সেই সুযোগ লুফে নিতে ভুল করেনি।

মেত্জের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পিএসজি। মাত্র তিন মিনিটেই গোলের খাতা খুলে দেন তরুণ ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়ে। মাঝমাঠ থেকে দারুণ গতিতে এগিয়ে গিয়ে ওয়ারেন জায়ের-এমেরির লম্বা পাস কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান। এই দ্রুত গোল পিএসজির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। কর্নার থেকে লুকাস হার্নান্দেজের হেড গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে পিএসজি। শেষ দিকে জোরালো শটে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন গঞ্জালো রামোস, যা ছিল এই মৌসুমে তার ১১তম গোল।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাম্প্রতিক ব্যস্ত সূচির কারণে কোচ লুইস এনরিকে এই ম্যাচে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেন। চোটে থাকা উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি আরও কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে একাদশের বাইরে রাখা হয়। সামনে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় স্কোয়াড রোটেশন ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

বর্তমানে ১১ ম্যাচ বাকি থাকতে পিএসজি লেন্সের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থানে থাকা অলিম্পিক লিঁও রোববার আরসি স্ট্রাসবুর্গ-কে হারাতে পারলে শীর্ষ দলের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে ছয়ে নামিয়ে আনতে পারবে, যা লিগের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

নিচে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

দলঅবস্থানপয়েন্ট ব্যবধান
পিএসজি১ম
লেন্স২য়-২
লিঁও৩য়সম্ভাব্য -৬

সব মিলিয়ে, লিগ আঁ-র শিরোপা দৌড় এখন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ, এবং সামান্য ভুলই বদলে দিতে পারে শিরোপার হিসাব।