নন-এমপিও শিক্ষকদের ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড, আহত ৪ জন ঢামেকে

ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন ও এমপিওভুক্তির দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের মুখে হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে, যার ফলে চারজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন:

  • আসাদুজ্জামান, ৪৭ বছর

  • ইকবাল হাসান, ৪০ বছর

  • মোস্তাকিম, ৪৫ বছর

  • বাবু, ৩৬ বছর

আহত আসাদুজ্জামান জানান, “পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির সময় পুলিশ আমাদের উপর জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, পাশাপাশি লাঠিচার্জও চালিয়েছে। আহত অবস্থায় আমাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহত চারজন শিক্ষককে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

নন-এমপিও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, সমস্ত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হোক। তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন, যার ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালু রাখার পাশাপাশি নিজের জীবিকা নির্বাহ করা তাদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

শিক্ষকরা ইতোমধ্যেই ১৮ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছেন। প্রতিদিন তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করে বেতন ও এমপিওভুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছে। তবে রোববারের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং পুলিশ বাধ্য হয়ে হস্তক্ষেপ করে।

তথ্যবিবরণ
ঘটনা স্থানজাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা
ঘটনা সময়রোববার, বিকেল
আহত শিক্ষকআসাদুজ্জামান (৪৭), ইকবাল হাসান (৪০), মোস্তাকিম (৪৫), বাবু (৩৬)
আহতদের চিকিৎসাঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে
শিক্ষক দাবিসকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি
অবস্থান কর্মসূচি১৮ দিন ধরে চলমান
পুলিশ হস্তক্ষেপজলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠিচার্জ

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতনহীন অবস্থায় কাজ করছেন এবং এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নীতি নির্ধারকদের প্রতি তাদের দাবি, অবিলম্বে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক, যাতে তারা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত সমস্যার প্রকাশ। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বিনা বেতনে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।

শিক্ষক সংগঠনগুলো আশা করছে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দ্রুত সমাধান ঘটবে।