এক ডজনেরও বেশি দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আবারও বাণিজ্য যুদ্ধের সুর তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, আগস্টের নির্ধারিত সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত নয়, আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদার দেশের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, স্থগিত হওয়া শুল্ক আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে। টোকিও এবং সিউলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মালয়েশিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সফররত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক নৈশভোজে ট্রাম্প জানান, সময়সীমা ‘দৃঢ়’ হলেও ‘১০০ শতাংশ অনড় নয়’। অন্যদিকে, কোনো দেশ ভিন্ন প্রস্তাব দিলে সেটিও বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, গত ২ এপ্রিল ‘লিবারেশন ডে’ উপলক্ষে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্কসহ ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে বাজারে অস্থিরতার পর তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। বুধবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকরের কথা থাকলেও, তার আগেই ট্রাম্প সময়সীমা বাড়িয়ে ১ আগস্ট পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের চিঠি অনুসারে, ইন্দোনেশিয়ার পণ্য ৩২ শতাংশ, বাংলাদেশের ৩৫ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের পণ্য ৩৬ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়বে। এ অবস্থায় অনেক দেশ দ্রুত চুক্তির জন্য তৎপর হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেন ও ভিয়েতনামের দুটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং চীনের সঙ্গে আলোচনাও চলছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা এই সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া ইতিমধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, কোন দেশের সঙ্গে আগে শুরু করা হবে, সেটি প্রেসিডেন্টের বিশেষাধিকার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা এশিয়া এবং অন্যান্য অংশীদারদের কাছে ‘একটি সতর্কবার্তা’। যদিও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, শিগগিরই আরও নতুন বাণিজ্য চুক্তি আসতে পারে। তবে এ খবরে সোমবার মার্কিন স্টকবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে। নাসদাক ০.৯ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ০.৮ শতাংশ কমে যায়।
এদিকে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তিনি এসব দেশকে ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’ অনুসরণ করার অভিযোগ করেন।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েনের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে।
