নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক কেজি গাঁজা ও ১০১টি ইয়াবা বড়িসহ এক নারী ও তাঁর মেয়ের জামাইকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার বিকেলে উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের স্ত্রী সীমা বেগম (৩৮) এবং নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে ও সীমার মেয়ের জামাই রাসেল শেখ (২১)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে পাঁচুড়িয়া গ্রামে ইউসুফ শেখের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কর্মকর্তারা বাড়িটির বসতঘরে তল্লাশি চালান। তল্লাশির একপর্যায়ে এক কেজি গাঁজা ও ১০১টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সীমা বেগম ও রাসেল শেখকে গ্রেফতার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক গোলক মজুমদার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে এক কেজি গাঁজা এবং ১০১টি ইয়াবা বড়ি রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোহাগড়া থানায় মামলা করা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, সীমা বেগমের স্বামী ইউসুফ শেখ বর্তমানে একটি মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। গোলক মজুমদারের দাবি, ইউসুফ শেখ লোহাগড়া উপজেলার অন্যতম মাদককারবারি হিসেবে পরিচিত। স্বামী কারাগারে থাকার পর সীমা বেগম তাঁর মেয়ের জামাই রাসেল শেখকে সঙ্গে নিয়ে মাদককারবার চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমা ও রাসেল প্রায় ছয় বছর ধরে মাদককারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই এবং মাদক সরবরাহের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চলবে।









