ঢাকার ধামরাইয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত এক কনস্টেবল এবং একজন বয়স্ক কৃষক। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলার কালামপুর-সাটুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের বাটুলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর সড়কে ছিটকে পড়লে একটি সিমেন্টবোঝাই কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে অন্যজনের মৃত্যু হয়।
Table of Contents
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত কনস্টেবল তারেক হোসেন মল্লিক (৩৭) ঢাকা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ধামরাইয়ের রাজাপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি যখন বাটুলিয়া এলাকা অতিক্রম করছিলেন, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাইসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেল আরোহী তারেক এবং বাইসাইকেল চালক আব্দুল কুদ্দুস (৬৫) উভয়েই চলন্ত সড়কের মাঝখানে ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী সিমেন্টবোঝাই কাভার্ড ভ্যান তাদের পিষ্ট করে চলে যায়। এই নৃসংস দুর্ঘটনায় কনস্টেবল তারেক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় কৃষক আব্দুল কুদ্দুসকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা ধামরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের পরিচয় ও সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র
| তথ্য | ১ম নিহত ব্যক্তি (মোটরসাইকেল চালক) | ২য় নিহত ব্যক্তি (বাইসাইকেল চালক) |
| নাম | তারেক হোসেন মল্লিক (৩৭) | আব্দুল কুদ্দুস (৬৫) |
| পিতার নাম | সামছুল হক মল্লিক | মৃত সাইদুর রহমান |
| পেশা | পুলিশ কনস্টেবল (হেডকোয়ার্টার্স) | কৃষক |
| স্থায়ী ঠিকানা | গ্রাম: রাজাপুর, ইউপি: চৌহাট, ধামরাই | গ্রাম: সিংশ্রী, ইউপি: কুশুরা, ধামরাই |
| মৃত্যুর স্থান | দুর্ঘটনাস্থল (বাটুলিয়া) | উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
পুলিশের আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত সিমেন্টবোঝাই কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর চালক শাহীন হাওলাদারকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। শাহীন পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজিত কুমার মৃধা সংবাদমাধ্যমকে জানান, অসাবধানতাবশত মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের সংঘর্ষের পর তারা সড়কে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে যান, যার ফলে কাভার্ড ভ্যানটি তাদের রক্ষা করার সুযোগ পায়নি। ঘাতক যানটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং চালকের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব ও সচেতনতা
এই দুর্ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সতর্কতা কতটা জরুরি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের মতো হালকা যানবাহনের চালকদের জন্য হেলমেট পরিধান এবং সড়ক বিভাজন মেনে চলা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। ধামরাইয়ের এই ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহত তারেক হোসেনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার মৃত্যুতে রাজাপুর গ্রামে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
