,

ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ১

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক ইউপি সদস্য আদম আলীকে (৬০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর দায়ের করা মামলার এক আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

নিহত আদম আলী একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তবে পুলিশের দাবি, আদম আলী একটি চরমপন্থি দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে একদন্ত বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। চণ্ডীপাশা গ্রামের আহম্মেদ আলীর বাড়ির সামনে পাকা সড়কে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এরপর তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়েও হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নামে র‌্যাব। হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাবনার র‌্যাব-১২-এর একটি দল আটঘরিয়ার গোপালপুর তাতিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইরাদুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেফতার করে। তিনি চণ্ডীপাশা গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন, দুটি সিমকার্ড এবং নগদ ১ হাজার ৭৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি চরমপন্থি দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে আদম আলীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আদম আলীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হলো ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ষাটগাছা গ্রামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ। ওই মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। পরে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেখানে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এলাকায় ফিরেছিলেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই তাকে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হলো।

একই ঘটনায় হত্যা মামলার একজন আসামি গ্রেফতার হওয়ায় তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বের অপরাধের জের নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদের গ্রেফতার এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।