,

দৌলতপুরে ৬ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩৮টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ২ হাজার টাকা। এ সময় প্রায় এক কেজি ইলিশ মাছও জব্দ করা হয়। পরে অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ এবং মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্নীর নেতৃত্বে অভিযানে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান অংশ নেন। পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত জাল শনাক্ত ও জব্দ করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।

অভিযান শেষে জব্দ করা কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে জালগুলো ধ্বংস করা হয়। কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল জব্দ করা নিষিদ্ধ জাল যাতে আবার মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, জব্দ করা প্রায় এক কেজি ইলিশ মাছ একজন অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে বিতরণ করা হয়।

মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিশেষ সংরক্ষণ অভিযান চলছে। এ সময় অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে নদী ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইলিশ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। দেশের মানুষের খাদ্যতালিকা, মৎস্যজীবীদের জীবিকা এবং মৎস্য অর্থনীতিতে এ মাছের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরার ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর করা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কারেন্ট জালের সূক্ষ্ম ফাঁসের কারণে এতে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ আটকে পড়তে পারে। এতে প্রজননক্ষম মাছের পাশাপাশি ছোট মাছও মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। চায়না দুয়ারি জালও নির্বিচারে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়ায় জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক বংশবিস্তার ও মাছের মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

দৌলতপুরে এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল জব্দের ঘটনা নদীতে অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধে তদারকির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

মা ইলিশ রক্ষায় নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সচেতনতা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।