দেশে আবারও পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প

সিলেট অঞ্চলের বিয়ানিবাজারে রাতের অন্ধকারে এক অনিশ্চিত আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে দুই দফা ভূমিকম্প। বৃহস্পতিবার রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। মাত্র পাঁচ মিনিট পর, রাত ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে আবারও একই এলাকায় ভূমিকম্পের দোল অনুভূত হয়। উভয় কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিয়ানিবাজার এলাকা।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনের মাত্রা ৩.৫ রিখটার স্কেলে, এবং গভীরতা ২০ কিলোমিটার। দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৩, এবং গভীরতা ৩০ কিলোমিটার। এই কম্পনের কারণে স্থানীয় মানুষরা আতঙ্কিত হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সিলেট অঞ্চলের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান হিমালয়ীয় প্লেট ও ভারতীয় প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় মাঝে মাঝে ক্ষুদ্র বা মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এই ধরনের কম্পন সাধারণত বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয় না, তবে সচেতন থাকা জরুরি।

পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ভূকম্পন

উক্ত দুই কম্পনের আগে ও পরে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। বিশেষ করে মিয়ানমার এবং আন্দামান–নিকোবর অঞ্চলে।

সময় (স্থানীয়)দেশ/অঞ্চলমাত্রা (রিখটার)গভীরতা (কিমি)কেন্দ্রবিন্দু
২:২০:৩১ রাতবাংলাদেশ, বিয়ানিবাজার৩.৫২০বিয়ানিবাজার, সিলেট
২:২৫:১৪ রাতবাংলাদেশ, বিয়ানিবাজার৩.৩৩০বিয়ানিবাজার, সিলেট
২:৫৪:৩ রাতমিয়ানমার, উত্তর মান্দালয়৩.৭উত্তর মান্দালয় থেকে ৬ কিমি দূরে
৩:৩৮:৩৬ রাতআন্দামান–নিকোবর৪.৩১৫আন্দামান–নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

 

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রথম কম্পনের সময় ঘর, রাস্তা এবং দোকানগুলো কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কে বাইরে বের হতে বাধ্য হন। যদিও কোনো তাত্ক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মানুষকে সতর্ক করেছেন, যদি ভবিষ্যতে আরও কম্পন হয়, দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি। এছাড়া ক্ষুদ্র কম্পনের সময় মানুষকে ঘরের শক্তিশালী অংশে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের এই ঘটনা প্রমাণ করে, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে এবং এ ধরনের ক্ষুদ্র বা মাঝারি মাত্রার কম্পন জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই সচেতনতা এবং প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

দুই দফা কম্পনের ঘটনা একদিকে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও, আরেকদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে যে কোনো কম্পনের আগে ও পরে নিরাপদ স্থানে থাকা, পরিবারকে সঙ্গে রাখা এবং জরুরি প্রস্তুতি রাখা অপরিহার্য।

SB