,

দুর্গন্ধে মিলল নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের পাটক্ষেত থেকে পরি রানী হাজরা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সাতপাড় বেদভিটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন দিন আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন পরি রানী হাজরা। এরপর স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

সোমবার সকালে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশের পাটক্ষেতের দিক থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে সেখানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি পরি রানী হাজরার বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের ছেলে মৃনাল হাজরা বলেন, তাঁর মা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। সকালে বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে পাটক্ষেতের কাছ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সেখানে গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, কে বা কারা তাঁর মাকে হত্যা করে মরদেহটি সেখানে ফেলে গেছে।

মৃনাল হাজরার আরও দাবি, তাঁর মায়ের কানে ও নাকে স্বর্ণালংকার ছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় সেগুলো পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁর পরিবারের ধারণা, হত্যার পর স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে ঘটনাটি হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরি রানী হাজরা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পাশে তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের স্থান, নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল এবং পরিবারের দেওয়া তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির একেবারে কাছ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বর্ণালংকার না পাওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেটি এখন ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।