ঢাকা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ও ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে অনলাইনে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে জনগণ ও সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যারা তারিখ উল্লেখ করছেন, তা তাদের নিজস্ব অনুমান বা ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার বিষয়। তাই জনগণকে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতার গুরুত্বের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “ভোট সংক্রান্ত গুজব বা অনুমান ছড়িয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা উচিৎ নয়। এটি নির্বাচনী পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।”
ইসি সূত্র জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি ১১ ডিসেম্বর তফশিল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রকাশ হয়েছে। আবার অন্য কেউ ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে ফেব্রুয়ারিতে—এমন অনুমানও করেছেন। তবে এসব কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে নয়।
তফশিল ঘোষণার প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সূচি বিষয়ে ইসি আগামী রবিবার একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে। বৈঠকে সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম, প্রার্থী দাখিলের সময়সীমা, ভোটের প্রস্তুতি এবং অন্যান্য বিষয় আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সিনিয়র সচিব আরও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যও ইসি আবেদন করেছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় নির্বাচনী তফশিল এবং সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে ইসির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে নির্বাচনের সূচি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো আলোচ্য থাকবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সতর্কবার্তা জনগণ ও গণমাধ্যমকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভোট সংক্রান্ত গুজব নির্বাচনী পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
নির্বাচন কমিশন সূত্র আরও জানায়, ভোটের তারিখ বা তফশিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো গণমাধ্যম বা ব্যক্তি অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করলে তা দায়িত্বহীন প্রচারণার ক্ষেত্রে পড়বে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচন সংক্রান্ত চূড়ান্ত তফশিল না আসার কারণে পরবর্তী প্রস্তুতি শুরু হয়নি। ইসি ও রাষ্ট্রপতির বৈঠকের পরেই ভোটের সঠিক সময়সূচি এবং প্রার্থী দাখিলের তারিখ নির্ধারিত হবে।
এভাবে নির্বাচন কমিশন জনগণকে সতর্ক করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছে। এতে করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
