মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায় ৯৪ ভরি ১৪ আনা সোনা উদ্ধার করেছে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক আক্তারুজ্জামান মুন্সি, মাই টিভির সংবাদ প্রতিনিধি মো. রমজান, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি রমজান আলী, মাইক্রোবাসচালক জাকির হোসেন এবং মিরপুরের জুয়েলারি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ডাকাতি ঘটনা ঘটে ৭ ডিসেম্বর বেলা সোয়া ৩টার দিকে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাসে করে দুই ভাই তাদের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাচ্ছিলেন। গজারিয়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের পোশাক পরা পাঁচজনের একটি দল তাদের মাদক মামলার অজুহাত দেখিয়ে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর তাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। দুই ব্যবসায়ীর চোখ বেঁধে মারধর করা হয় এবং ১৪৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মুঠোফোন, এটিএম কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি স্থানে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। ৯ ডিসেম্বর সকাল থেকে রাজধানীর কাফরুল, মিরপুর ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের ফলে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৯৪ ভরি ১৪ আনা সোনা, সোনা বিক্রির ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, দুই জোড়া হাতকড়া, দুটি ওয়াকিটকি, পুলিশের তিন সেট ইউনিফর্ম এবং সাতটি মুঠোফোন।
মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, অবশিষ্ট সোনা এবং পলাতক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ বলেছে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।