দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। এর ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে। সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং চারজন নারী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা কিছুটা বেশি। মোট মৃতদের মধ্যে পুরুষের হার প্রায় ৪৮ শতাংশ, আর নারীর হার প্রায় ৫২ শতাংশ।
নতুন করে ১ হাজার ৯০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জন। একই ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৩৩৫ জন।
নতুন রোগী ভর্তির হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে থাকা হাসপাতালগুলোতেই রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরপর রয়েছে খুলনা বিভাগ। সেখানে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৬ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন, বরিশালে ২১৬ জন, রাজশাহীতে ১০৫ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন এবং রংপুরে ৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২০৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে দেওয়া বিভাগ ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক সংখ্যাগুলো যোগ করলে মোট ১ হাজার ৮৯৩ জন পাওয়া যায়। তবে একই বুলেটিনে মোট নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯০২ জন উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুই হিসাবের মধ্যে ৯ জনের পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উল্লেখ করা মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যাকেই মূল হিসাব হিসেবে ধরা হয়েছে।
মৃত্যুর দিক থেকেও ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই এলাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৭১ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়া ১ হাজার ৯৮৮ জনের সংখ্যা একই সময়ে নতুন ভর্তি রোগীর চেয়ে বেশি। তবে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গুর চাপ এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









