দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার মো. এহতেশামুল হক খান। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই পদে যোগদান করেন। ব্যাংকের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
Table of Contents
নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
দীর্ঘ আট বছর সফলভাবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন আবুল কাশেম মো. শিরিন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত বয়সসীমার কারণে তাঁর চাকরির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েই এহতেশামুল হক খান ব্যাংকটির হাল ধরলেন। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আজ তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে বিদায়ী এমডির নিকট থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা
মো. এহতেশামুল হক খান একজন সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পেশাদার ব্যাংকার। তিনি গত প্রায় দুই দশক ধরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সাথেই যুক্ত আছেন। এমডি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ ছয় বছর ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং প্রধান ব্যবসায় কর্মকর্তা (সিবিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি ব্যাংকটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এবং স্থানীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেট শাখার প্রধান হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
নিচে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নাম | মো. এহতেশামুল হক খান |
| বর্তমান পদ | ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক |
| পূর্ববর্তী পদ | উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও |
| ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু | ১৯৯৫ সাল (বেসিক ব্যাংক লিমিটেড) |
| ডিবিবিএল-এ যোগদান | ২০০৩ সাল |
| মোট অভিজ্ঞতা | ৩০ বছরের বেশি |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | বিএসসি ও এমএসসি (অর্থনীতি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় |
ব্যাংকিং খাতে অবদান
১৯৯৫ সালে বেসিক ব্যাংকে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার’ (অন প্রবেশন) হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন এহতেশামুল হক খান। ২০০৩ সালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে তিনি ব্যাংকটির প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা প্রবর্তন এবং ব্যবসায়িক পরিধি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ব্যাংকটির রিটেইল ও কর্পোরেট ব্যবসায়িক কৌশলে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে সহায়ক হয়েছে। তিনি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা ব্যাংকটিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং সারা দেশে বিস্তৃত এটিএম ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ককে আরও গতিশীল করার চ্যালেঞ্জ এখন তাঁর সামনে।
