ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ভয়েস অফ আমেরিকাসহ মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম বন্ধ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করে ভয়েস অফ আমেরিকা (ভিওএ) এবং অন্যান্য মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদ সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। শনিবার এসব প্রতিষ্ঠানের শত শত সাংবাদিককে ছুটিতে পাঠানো হয়। রাশিয়া ও চীনের তথ্যযুদ্ধ মোকাবেলায় বহু দশকের পুরনো এসব সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

ভিওএ, রেডিও ফ্রি এশিয়া, রেডিও ফ্রি ইউরোপসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা সপ্তাহান্তে একটি ইমেইল পান, যেখানে তাদের অফিসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রেস পাসসহ অফিস সরঞ্জাম ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা ও শিক্ষা বিভাগ স্থগিত করেছেন। গত শুক্রবার তিনি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়া’কে অপ্রয়োজনীয় ফেডারেল সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন।

মার্কিন সিনেট নির্বাচনে পরাজিত হওয়া ট্রাম্প-সমর্থক কারি লেক, যিনি মিডিয়া এজেন্সির দায়িত্বে ছিলেন, তিনি এক ইমেইলে জানিয়েছেন, “ফেডারেল অনুদানের অর্থ এই সংস্থার কার্যক্রমকে আর সমর্থন করে না।”

হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করবে যে “করদাতারা উগ্র প্রচারণার ফাঁদে পড়বে না”, যা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

হোয়াইট হাউসের প্রেস কর্মকর্তা হ্যারিসন ফিল্ডস এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ২০টি ভাষায় “বিদায়” লিখে পোস্ট করেছেন, যা বহুভাষিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি এক ধরনের কটাক্ষ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিওএ পরিচালক মাইকেল আব্রামোভিটজ জানিয়েছেন, ১,৩০০ কর্মীর মধ্যে তিনিও ছুটিতে পাঠানো হয়েছেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, “ভিওএ-এর সংস্কারের প্রয়োজন ছিল এবং আমরা সে পথে এগোচ্ছিলাম। কিন্তু আজকের সিদ্ধান্ত ভয়েস অফ আমেরিকাকে তার মূল লক্ষ্য অর্জনে অক্ষম করে তুলবে।” উল্লেখ্য, ভিওএ প্রতি সপ্তাহে ৪৮টি ভাষায় ৩৬ কোটি মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেয়।

তিনি আরও বলেন, “স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ব্লকে সম্প্রচার শুরু করা রেডিও ফ্রি ইউরোপ ও রেডিও লিবার্টির তহবিল বাতিল করা আমেরিকার শত্রুদের জন্য বিশাল এক উপহার।”

স্নায়ুযুদ্ধের পর মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত এসব গণমাধ্যম নিজেদের পুনর্গঠন করে এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের পরিবর্তে রাশিয়া ও চীনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

এদিকে, গত দশকে চীনা রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদমাধ্যমগুলোর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেক সংবাদমাধ্যমকে বিনামূল্যে পরিষেবা দিয়ে আসছে, যেখানে পশ্চিমা সংবাদ সংস্থাগুলো অর্থের বিনিময়ে কভারেজ দিত।