গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ হামলা: সাংবাদিকসহ ৯ জন নিহত, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় সাংবাদিকসহ নয়জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার এই হামলা সংঘটিত হয়, যা ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপি গাজা শহর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। হামাস এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ ১ মার্চ শেষ হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত ইসরাইল ও হামাস উভয়েই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

এক হামাস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার দোহায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে ইসরাইলও তাদের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার দলকে হামাসের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, “নিহত নয়জনের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিক এবং আল-খাইর চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশনের কর্মীরা রয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, “বেইত লাহিয়া শহরে একটি ড্রোন হামলায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। এরপর একই এলাকায় কামান হামলাও হয়েছে।”

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, “বেইত লাহিয়া এলাকায় দুই সন্ত্রাসীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, যারা আইডিএফ সেনাদের জন্য হুমকি স্বরূপ একটি ড্রোন পরিচালনা করছিল। পরে আরও কিছু ব্যক্তি ড্রোন পরিচালনার সরঞ্জামসহ একটি গাড়িতে প্রবেশ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”

মার্চের শুরু থেকেই ইসরাইল গাজায় প্রায় প্রতিদিন বিমান হামলা চালিয়ে আসছে এবং দাবি করছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু জঙ্গিদের বিস্ফোরক স্থাপনা।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, “দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন করে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের লক্ষ্য করে গণহত্যা চালিয়েছে।”

হামাস আরও বলেছে, “এই হামলা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসার ইসরাইলের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয় এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পাদনের যেকোনো সম্ভাবনাকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।”

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সিন্ডিকেট জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন সম্পাদক এবং তিনজন ফটো সাংবাদিক রয়েছেন। এছাড়া, বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন ড্রোন ফটোগ্রাফি বিশেষজ্ঞও ছিলেন।