কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে কোস্ট গার্ডের এক বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি রাইফেল, ম্যাগাজিন, তাজা গোলা এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) গভীর রাতে টেকনাফের লেদা খাল সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানের বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানতে পারে যে টেকনাফের লেদা খাল এলাকা দিয়ে একটি বড় ধরনের মাদক ও অস্ত্রের চালান খালাস করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি বিশেষ আভিযানিক দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থান নেয়।
অভিযান চলাকালীন সময় টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ও অস্ত্র কারবারিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গভীর পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। ঘন অন্ধকার ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ওই স্থানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। উক্ত ব্যাগ তল্লাশি করে অত্যাধুনিক বিদেশি রাইফেলসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত মালামালের পরিসংখ্যান
অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামালের বিস্তারিত বিবরণ নিচে প্রদান করা হলো:
| ক্রমিক | জব্দকৃত বস্তুর বিবরণ | পরিমাণ |
| ০১ | বিদেশি রাইফেল | ০১ টি |
| ০২ | ম্যাগাজিন | ০১ টি |
| ০৩ | তাজা গোলা (অ্যামুনিশন) | ০৫ রাউন্ড |
| ০৪ | ইয়াবা ট্যাবলেট | ৭০,০০০ পিস |
আইনগত ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমন এবং মাদকপাচার রোধে তাদের নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত বিদেশি রাইফেল, গোলাবারুদ এবং ইয়াবার চালানের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব অবৈধ দ্রব্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
টেকনাফ ও পার্শ্ববর্তী নাফ নদী সংলগ্ন এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে নিয়মিত মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান আসার খবর পাওয়া যায়। লেদা খাল এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অপরাধীরা প্রায়ই এই রুটটি ব্যবহারের চেষ্টা করে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চোরাচালান বন্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
