টিকিট-বিহীন যাত্রী ধরপাকড়, রেলের বড় আদায়

বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটবিহীন ভ্রমণ রোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একদিনেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। দেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনে একযোগে অভিযান চালিয়ে টিকিট ছাড়া ভ্রমণকারী ৫ হাজার ২২০ জন যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ অভিযানে ভাড়া ও জরিমানাসহ মোট আদায় হয়েছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ১৩৫ টাকা, যা রেলওয়ের রাজস্ব আদায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মোট ১৪৯টি যাত্রীবাহী ট্রেনে টিকিট পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হয়, যেখানে দায়িত্ব পালন করেন ২০৬ জন ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার (টিটিই)। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি যাত্রীদের টিকিট যাচাই করা হয় এবং যেসব যাত্রী টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করছিলেন, তাদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া ও জরিমানা আদায় করা হয়।

রেলওয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অভিযানে শুধু জরিমানাই নয়, টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকৃত ভাড়াও আদায় করা হয়েছে। এতে ভাড়া বাবদ আদায় হয়েছে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৬১০ টাকা এবং জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৫২৫ টাকা। সব মিলিয়ে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ১৩৫ টাকা। একই দিনে মোট ৩ হাজার ৭৭৫টি টিকিট যাচাই করা হয়, যা নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি বিশেষ অভিযানের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, টিকিটবিহীন ভ্রমণ শুধু রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, বরং এতে শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং নিয়ম মেনে টিকিট কেটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের প্রতি অবিচার করা হয়। তাই নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি হঠাৎ বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা, অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটার সুযোগ বাড়লেও এখনও একটি অংশ টিকিট ছাড়া ভ্রমণের চেষ্টা করে। নিয়মিত তদারকি ও জরিমানার পরিমাণ বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োগ করা হলে এ প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও আইন মেনে ভ্রমণ করার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।

নিচের ছকে একদিনের অভিযানের প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
অভিযান পরিচালনার তারিখ৪ ফেব্রুয়ারি
মোট ট্রেনের সংখ্যা১৪৯টি
দায়িত্বপ্রাপ্ত টিটিই২০৬ জন
টিকিটবিহীন যাত্রী শনাক্ত৫,২২০ জন
টিকিট যাচাইয়ের সংখ্যা৩,৭৭৫টি
ভাড়া আদায়৭,৫৯,৬১০ টাকা
জরিমানা আদায়৩,০৯,৫২৫ টাকা
মোট আদায়১০,৬৯,১৩৫ টাকা

সার্বিকভাবে, এ অভিযান বাংলাদেশ রেলওয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে টিকিটবিহীন ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।