ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের আটজন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ আরও প্রায় ১০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহসভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুসহ মোট আটজন।
এ ঘটনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নেতারা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আটক করতে হবে, অন্যথায় ছাত্রদল নিজেদের দায়িত্ব হাতে তুলে নেবে।
ঘটনার পর সরেজমিনে দেখা যায়, মামলা দায়ের শেষে থানার সামনে থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর সহকর্মীরা ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এ সময় থানার সামনে এবং আশপাশের এলাকায় মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ঝিনাইদহ শহর ত্যাগ করেন।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দীন রনির ওপর হামলা এবং ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও এনসিপির পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর অনুসারীরা ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান নেন এবং মামলা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদ উজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ওসি আরও জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঢাকায় ফিরে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।









