ঝিনাইগাতি (শেরপুর) থেকে প্রতিবেদক: শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় এক নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো পাঠের সময় সংঘটিত সহিংস সংঘর্ষে জামায়াত-ই-ইসলামির নেতা মৌলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন শ্রী বার্ডি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অন্তত ছয়শোর বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বেগম শুক্রবার রাত ১২টা ০ মিনিটে ঝিনাইগাতি থানা পুলিশের কাছে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি, শেরপুর-৩ (শ্রী বার্ডি–ঝিনাইগাতি) নির্বাচনী এলাকায় যৌথ নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুষ্ঠানের সময়। সূত্রগুলো বলছে, আসনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত শারীরিক মারামারিতে রূপ নেয় এবং ব্যাপক সহিংস সংঘর্ষে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। রেজাউল করিমকে প্রাথমিকভাবে শেরপুর জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। জামায়াত জেলা নেতা হাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়, যা তার মৃত্যুর মূল কারণ।
নলিতাবাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম নিশ্চিত করেছেন, নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, আসামিদের সনাক্তকরণ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং তদন্ত চলাকালীন আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সকল পক্ষকে শান্তি ও সংযম বজায় রাখতে আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়।
নিম্নে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| নিহতের নাম | মৌলানা রেজাউল করিম |
| পদবি | সাধারণ সম্পাদক, শ্রী বার্ডি উপজেলা জামায়াত |
| সংঘটিত স্থান | ঝিনাইগাতি উপজেলা, শেরপুর |
| সংঘর্ষের তারিখ | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ |
| মামলা দায়েরের তারিখ | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ১২:০০ |
| মামলাকারী | মারজিয়া বেগম (নিহতের স্ত্রী) |
| অভিযুক্তের সংখ্যা | ২৩৪ শনাক্ত, ৪০০–৫০০ অজানা |
| আহতের সংখ্যা | অন্তত ৩০ |
| অভিযোগ | ইট দিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ড |
| পুলিশের পদক্ষেপ | গ্রেফতার অভিযান চলমান |
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি ও নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতারা তড়িঘড়ি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তদন্তের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় আগামী দিনে আরও তথ্য প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
