জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন এলাকা থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপেই বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সবজি ও মাছের দামে। কয়েক ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা এবং বিভিন্ন জাতের মাছের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
একই সময়ে কিছু বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। আটা ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে আগে থেকেই উচ্চমূল্যে থাকা নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর ও নিউমার্কেটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ে চাপ
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত রবিবার সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পেট্রলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা।
পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এর দাম বৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন পরিবহনের ব্যয়ে পড়ছে। উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীতে পণ্য আনা, পাইকারি বাজারে সরবরাহ এবং পরে খুচরা দোকানে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় বাড়তি পরিবহন ব্যয় যুক্ত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সেই বাড়তি খরচের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে দূরবর্তী জেলা থেকে রাজধানীতে আনা পচনশীল সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব তুলনামূলক দ্রুত দেখা যাচ্ছে।
বাড়ছে সবজির দাম
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি আনতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। সেই প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।
বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। দেশি শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, দেশি গাজর ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা এবং বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঢেঁড়সের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা এবং পটল ৭০ টাকা কেজি। মানভেদে টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং ধুন্দুল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি জালি কুমড়া ও লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
তবে সব ধরনের সবজির দাম একই হারে বাড়েনি। সরবরাহ পরিস্থিতি, উৎপাদন এলাকা, মৌসুমি প্রাপ্যতা, চাহিদা এবং পরিবহনের দূরত্বের ওপর দাম কমবেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মাছের বাজারেও বাড়তি দামের প্রভাব
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বর্তমানে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাশ আকারভেদে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের কৈয়ের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বড় আকারের পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ও মলা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টেংরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি।
আকারভেদে রূপচাঁদার দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের পদ্মার ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, আর একই ওজনের চট্টগ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নতুন করে মাছ ও সবজির দাম বাড়ায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ আরও বেড়েছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে তাই প্রয়োজনের তালিকা থেকে কিছু পণ্য বাদ দিতে হচ্ছে বা কম পরিমাণে কিনতে হচ্ছে।
ডিম-মুরগিতেও স্বস্তি নেই
মাছ ও সবজির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। বিক্রেতাদের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস ধরে এসব পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা।
ডিমের দামও কমেনি। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো খুচরা বাজারে তা ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে চারটি ডিম কিনতেও এখন ৫০ টাকা বা তার বেশি খরচ হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, ডিম ও মুরগির মতো তুলনামূলক নিয়মিত খাবারের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকায় পরিবারের খাদ্য বাজেটে চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে সবজি ও মাছের দাম বাড়ায় দৈনন্দিন বাজার সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
কমেছে কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ
নিত্যপণ্যের বাজারে আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ। কয়েকটি বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতল তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহও কিছুটা কমেছে বলে তাঁদের দাবি।
চলতি মাসের শুরুতে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ায়। এরপর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়ায় ২০৪ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, দাম বাড়ানোর পর কয়েক দিন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পরে কিছু বাজারে আবার সরবরাহ কমে আসে। তাঁদের দাবি, কোম্পানিগুলো তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল বাজারে দিচ্ছে।
কয়েকজন বিক্রেতা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। একই সঙ্গে সব বাজারে যে একই মাত্রায় সরবরাহ কমেছে, এমন চিত্রও পাওয়া যায়নি।
আটা-ময়দার দামও বেড়েছে
গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা এবং ময়দার দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রান্নাঘরের নিয়মিত প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ব্যয়ও বাড়ছে।
মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কতটা ছড়াবে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীতে পণ্য আনা, পাইকারি বাজারে পৌঁছানো এবং পরে খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ—প্রতিটি ধাপেই পরিবহন ব্যয় রয়েছে। সেই ব্যয় বাড়লে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত খরচ তৈরি হয়।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বেড়েছে। ফলে দূরবর্তী জেলা থেকে রাজধানীতে আসা পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে, এমন নয়। একটি পণ্যের চূড়ান্ত দাম নির্ভর করে উৎপাদন খরচ, সরবরাহের পরিমাণ, মৌসুমি প্রাপ্যতা, চাহিদা, পরিবহনের দূরত্ব এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারের পরিস্থিতির ওপর। তাই পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পুরো চাপ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি পণ্যের দামে যুক্ত নাও হতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিবহন ব্যয় দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে অন্যান্য নিত্যপণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়লে পরবর্তী সময়ে সেটিও বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।
কমেছে বাজারের পরিমাণ, বদলেছে কেনাকাটার ধরন
দাম বাড়ার প্রভাব এখন শুধু পরিবারের মাসিক বাজেটে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের বাজার করার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য কেনার সুযোগ থাকলেও এখন অনেকেই বাজারে যাওয়ার আগেই নির্দিষ্ট বাজেট ঠিক করছেন। সেই টাকার মধ্যেই প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা চলছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, আগে বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নেওয়া গেলেও এখন হাতে থাকা টাকার হিসাব করে তালিকা করতে হয়। মাছের দাম বেশি হলে মুরগি, সেটিও বেশি হলে ডিম বা অন্য কোনো পণ্য দিয়ে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন তিনি।
রায়েরবাজারের গৃহিণী আকলিমা আক্তার বলেন, আগে একসঙ্গে সপ্তাহের মাছ, মুরগি ও ডিম কিনে রাখতেন। এখন বেশি করে কিনলে একবারেই অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই দুই-তিন দিনের প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে কিনছেন। কোনো দিন মাছ থাকছে, আবার কোনো দিন মাছ বাদ দিয়ে মুরগি বা ডিম দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে।
অনিয়মিত আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। হাজারীবাগের দিনমজুর আবুল কাশেম বলেন, কাজ থাকলে কোনোভাবে সংসার চালানো গেলেও কাজ কম থাকলে বাজারের তালিকা ছোট করতে হয়। মাছ বা মুরগি কিনলে অন্য কোনো প্রয়োজনীয় পণ্য কমাতে হয়।
ক্রেতা কমলেও বিক্রেতার খরচ কমছে না
পরিবর্তিত কেনাকাটার প্রভাব পড়েছে বিক্রেতাদের ব্যবসাতেও। কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা দিদারুল ইসলাম বলেন, এখন ক্রেতারা দোকানে এসে প্রথমেই দাম জানতে চান। কেউ এক কেজি মুরগি কিনতে এসে দাম শুনে আধা কেজি নিচ্ছেন, আবার কেউ ৭০০ গ্রাম নিয়ে চলে যাচ্ছেন। অনেকে দাম বেশি মনে হলে কিছু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ডিম বিক্রেতা জসিম হাওলাদার বলেন, আগে অনেক ক্রেতা একসঙ্গে দুই-তিন ডজন ডিম কিনতেন। এখন অনেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ছয়টি বা এক ডজনের বেশি নিতে চাইছেন না। ফলে বিক্রি কমেছে। কিন্তু আড়ত থেকে যে দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে, তার চেয়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে একটি পণ্যের চূড়ান্ত দামের পুরোটা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। পাইকারি ক্রয়মূল্যের সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিক, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যুক্ত হয়। এসব খরচ বাড়লে খুচরা পর্যায়ে দাম কমিয়ে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা শিহাব মোল্লা বলেন, দাম বেশি হলে তাঁদেরও ক্রেতা কমে যায় এবং বিক্রি কমে। তবে পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাছ কিনে কম দামে বিক্রি করলে সরাসরি লোকসান গুনতে হবে।
নিউমার্কেটের মাছ বিক্রেতা হাসিব বেপারি বলেন, অনেক পরিবার আগে দুই কেজি মাছ কিনলেও এখন এক কেজি বা তার কম কিনছে। একইভাবে এক কেজি মুরগির বদলে আধা কেজি নেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। এতে বিক্রির পরিমাণ কমছে, কিন্তু পরিবহন ও দোকান পরিচালনার খরচ একইভাবে বহন করতে হচ্ছে।
ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে চাপের একটি চক্র। ক্রেতার হাতে একই পরিমাণ অর্থ থাকলেও সেই টাকায় আগের তুলনায় কম পণ্য মিলছে। অন্যদিকে বিক্রি কমলেও পাইকারি দাম ও অন্যান্য ব্যয় কমছে না বলে বিক্রেতার পক্ষেও সহজে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
এর প্রভাব পড়ছে পরিবারের খাবারের তালিকায়। প্রয়োজন অনুযায়ী নয়, বরং সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক পরিবারকে এখন ঠিক করতে হচ্ছে কোন দিন মাছ থাকবে, কোন দিন মুরগি, আর কোন দিন তুলনামূলক সস্তা কোনো বিকল্প খাবার দিয়ে চলতে হবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পরিবহন ব্যয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের বাজারে পড়ে। এতে একদিকে পণ্যের দাম বাড়ে, অন্যদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে বাজারে চাহিদাও কমতে পারে। তাঁর মতে, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে কি না, তা নজরদারির পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রাথমিক প্রভাব ইতোমধ্যে পরিবহন ও কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনে এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে পরিবহন ব্যয়, পণ্যের সরবরাহ, উৎপাদন খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর। তবে এরই মধ্যে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাস্তবতা স্পষ্ট—একই অর্থ খরচ করে আগের তুলনায় কম পণ্য নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে।









