“আমার আন্তর্জাতিক আইনের দরকার নেই”: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নীতিমালার শৃঙ্খলকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তার নীতি পরিচালিত হবে কেবল তার “নিজস্ব নৈতিকতা” বা ‘ওন মোরালিটি’র দ্বারা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন তাকে সীমিত করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না।” যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, তার উচিত কি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা—তখন ট্রাম্প জবাব দেন, “আমি তা করি, তবে এটি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞার উপর।”

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে। গত শনিবার ভোরে কারাকাস ও অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। মার্কিন সেনারা শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করতে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক সমালোচকরা এই অভিযানকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন হামলার পর ঘোষণা করেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করবে, তবে নীতি অমান্য করলে “দ্বিতীয় দফার” সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থাকবে। ট্রাম্প রদ্রিগেজ সম্পর্কে বলেছেন, “তিনি যদি সঠিক কাজটি না করেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।”

ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতি শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলায় সীমাবদ্ধ নয়। চলতি সপ্তাহে তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনাও জোরদার করেছেন। গত জুনে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেন।

ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেছেন, “আমরা একটি পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।” তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করলে তা সমগ্র বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

নিচের টেবিলে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক আগ্রাসী নীতি ও কর্মকাণ্ড সংক্ষেপে দেখানো হলো:

দেশ / অঞ্চলঘটনা / পদক্ষেপতারিখআন্তর্জাতিক প্রভাব
ভেনেজুয়েলাপ্রেসিডেন্ট মাদুরোর অপহরণ ও সামরিক হামলা৬–৭ জানুয়ারি ২০২৬জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন অভিযোগ
কলম্বিয়াপ্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর সম্ভাব্য হামলা ইঙ্গিত৮–৯ জানুয়ারি ২০২৬আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
ডেনমার্ক (গ্রিনল্যান্ড)অঞ্চল দখলের প্রচেষ্টাচলতি সপ্তাহআন্তর্জাতিক সম্পর্কের উত্তেজনা
ইরানপারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশজুন ২০২৫মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা

আইনজীবী ও জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট মন্তব্য করেছেন, “অন্তর্জাতিক আইনকে এভাবে প্রত্যাখ্যান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তি রক্ষা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিগত অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।