বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আজ এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক অ্যাথলেট, নিবেদিতপ্রাণ কোচ ও ক্রীড়া সংগঠক শামীমা সাত্তার মিমো গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যু দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শামীমা সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ এবং ভার্টিগো সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েক মাস আগে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটায়। হাঁটাচলায় অসুবিধা এবং মানুষের মুখ চিনতে সমস্যা দেখা দেয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আবারও ক্রীড়াঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রত্যাবর্তন দীর্ঘ হয়নি। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বাবার কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
শামীমা সাত্তার মিমো স্বাধীনতা–উত্তরকালে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। জাতীয় অ্যাথলেটিকসে হাই জাম্প ইভেন্টে তিনি দীর্ঘ সময় শীর্ষে ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন স্প্রিন্ট ইভেন্টে তিনি একাধিক পদক অর্জন করেন। তার অসামান্য ক্রীড়াজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান।
অ্যাথলেটিকস ক্যারিয়ার শেষ করার পর তিনি কোচ, জাজ এবং সংগঠক হিসেবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে কোচ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি বিকেএসপি-র উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি অ্যাথলেটিকস এবং আর্চারি ফেডারেশনের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘকাল জাজের দায়িত্বও পালন করেছেন।
তার মৃত্যুতে বিকেএসপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, আর্চারি ফেডারেশনসহ দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
নিচের টেবিলে শামীমা সাত্তার মিমোর জীবন ও কৃতিত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | শামীমা সাত্তার মিমো |
| জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার | ২০০০ |
| প্রধান ইভেন্ট | হাই জাম্প, স্প্রিন্ট |
| কর্মজীবন | অ্যাথলেট, কোচ, জাজ, সংগঠক |
| প্রতিষ্ঠান | জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি |
| স্বাস্থ্য সমস্যা | হৃদরোগ, ভার্টিগো |
| শেষকৃত্য | দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে |
শামীমা সাত্তার মিমোর জীবন ও অবদান ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত। তার সততা, পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
তার প্রয়াণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। ক্রীড়াঙ্গনের সকলেই তার স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এবং তার আদর্শ অনুসরণ করে দেশের ক্রীড়ার উন্নয়নে অবদান রাখবে।
