যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বিশাল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাচ্ছে, যার মধ্যে জাতিসংঘের ১৭টি অঙ্গ সংস্থাও রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বুধবার প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমন, অভিবাসন উন্নয়ন ফোরাম এবং গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা সীমিত, অনেক ক্ষেত্রে কিছু পক্ষের স্বার্থে প্রভাবিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ও সম্পদের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, “এই সংস্থাগুলোর জন্য ব্যয় করা আর গ্রহণযোগ্য নয়, বিনিময়ে কার্যত কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।”
জাতিসংঘের অন্তর্গত ১৭টি সংস্থা নিম্নরূপঃ
| সংস্থা নাম | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল | বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন |
| ইউএন অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস | সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংহতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি |
| ইউএন কলাবোরেটিভ প্রোগ্রাম অন রিডিউসিং এমিশনস | বন উজাড় ও কার্বন নির্গমন হ্রাসে সহযোগিতা |
| ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা |
| ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড | গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া উন্নয়ন |
| ইউএন এনার্জি | বৈশ্বিক শক্তি নীতি ও উন্নয়ন |
| ইউএন হিউম্যান সেটেলমেন্টস প্রোগ্রাম | মানব বসতি ও নগর উন্নয়ন |
| ইউএন ওশেনস | সমুদ্র ও জলের সংরক্ষণ প্রকল্প |
| ইউএন পপুলেশন ফান্ড | জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন |
| ইউএন ওয়াটার | পানি ও স্যানিটেশন উন্নয়ন |
| অন্যান্য ৭ সংস্থা | পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও শান্তি সংক্রান্ত উদ্যোগে নিয়োজিত |
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো স্বার্থনিরপেক্ষ ও কার্যকর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সক্রিয়। ২০২৩ সালে দেশটি আন্তর্জাতিক সৌর শক্তি উন্নয়ন উদ্যোগ, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়ন্স–এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল সৌর শক্তির সম্প্রসারণ ও সবুজ শক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি করা, যা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, আগামীতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কার্যকর ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
