রাজশাহী মহানগরীতে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে জ্বালানি তেল মজুত ও চড়া দামে বিক্রির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা। ফিলিং স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির মাধ্যমে একটি লাভজনক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি এলাকার একটি বহুতল ভবনে ঘটে। দীর্ঘদিনের গোপন নজরদারির পর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিশ্চিত হন যে, ভবনটির বেসমেন্টে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করা হচ্ছে। এরপর তারা ক্রেতা সেজে সেখানে প্রবেশ করে অভিযান পরিচালনা করেন এবং হাতেনাতে অভিযুক্তকে আটক করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রাকিব হাসান। তিনি মহানগরীর হোসনীগঞ্জ বেতপট্টি এলাকার শাহজাহান আলীর সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি ফিলিং স্টেশনের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতেন। পরে সেই তেল বোতল ও বিভিন্ন জারজাত পাত্রে ভরে বেসমেন্টে মজুত রাখা হতো। সেখান থেকেই চাহিদাভিত্তিকভাবে বিক্রি করা হতো সাধারণ ক্রেতা ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের কাছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই অবৈধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং প্রতি লিটার জ্বালানি তেল বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হতো। সাধারণত প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হতো, যা স্বাভাবিক খুচরা মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এভাবে ধীরে ধীরে একটি গোপন সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় বেসমেন্ট থেকে প্রায় ৪০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত তেল বিধি অনুযায়ী বিক্রি করা হয় এবং প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত রাকিব হাসানকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সতর্ক করেন।
গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা অনুযায়ী, অভিযুক্তের কাছে থাকা বিভিন্ন বোতল ও জারের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে মনে করা হচ্ছে যে, তিনি সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় পাঁচশ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়েও গভীর তদন্ত চলছে। পুরো চক্রটি শনাক্ত ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
নিচে অভিযানের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের স্থান | আলুপট্টি, রাজশাহী মহানগর |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | রাকিব হাসান |
| পিতার নাম | শাহজাহান আলী |
| জব্দকৃত জ্বালানি তেল | প্রায় ৪০ লিটার |
| সংরক্ষণ পদ্ধতি | বোতল ও জারজাত পাত্রে মজুত |
| বিক্রয় মূল্য | প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকা |
| জরিমানা | ৫ হাজার টাকা |
| অভিযানকারী সংস্থা | জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত |
এই ঘটনার পর রাজশাহী মহানগরীতে জ্বালানি তেলের অবৈধ বাজার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের দাবি জোরদার হয়েছে।
