চেক প্রজাতন্ত্রে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তদন্তে আটকে যাওয়ায় সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান কোরিয়া হাইড্রো অ্যান্ড নিউক্লিয়ার পাওয়ার (কেএইচএনপি)।
মঙ্গলবার সিউল থেকে এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কেএইচএনপি জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনের তদন্তের প্রেক্ষিতে তারা সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে গত ২ মে ইউরোপীয় কমিশন চেক সরকারকে চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানায়।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত টেন্ডারে ফ্রান্সের ইডিএফ-কে পরাজিত করে কেএইচএনপি দক্ষিণ চেক প্রজাতন্ত্রের ডুকোভানি পারমাণবিক কেন্দ্রে দুটি ইউনিট নির্মাণের দায়িত্ব পায়। তবে ইডিএফ চেক প্রতিযোগিতা কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে আদালতে মামলা করে এবং চুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি তোলে।
ইইউ জানায়, তারা তদন্ত করে দেখছে কেএইচএনপি বিদেশি সরকারি ভর্তুকি পেয়েছে কি না, যা প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছতা ব্যাহত করতে পারে। এতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কেএইচএনপি দাবি করেছে, তাদের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল পুরোপুরি স্বচ্ছ এবং তারা দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো ভর্তুকি বা আর্থিক সহায়তা নেয়নি, যা প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ইউরোপীয় কমিশন যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে এবং চুক্তিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে তারা ইউরোপীয় আদালতে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের আবেদন করবে।
কেএইচএনপি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে কোরিয়ান সরকারের বিশেষ বাণিজ্যিক সহায়তার আবেদনসহ সম্ভাব্য সব আইনি পথ খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।’
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপে কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর সব প্রকল্পই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ও ইইউর নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে। কেএইচএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করলে তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
বর্তমানে ইডিএফ-এর করা মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত চেক আদালতের নির্দেশে চুক্তিটি স্থগিত রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ডুকোভানি পারমাণবিক কেন্দ্রে দুটি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল কেএইচএনপি’র। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২০০ বিলিয়ন চেক কোরুনা (৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। চেক সরকার ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাইলেও ইডিএফ-এর আপিলের কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছে।
চেক বিদ্যুৎ কোম্পানি সিইজেড আশা করছে, ২০২৯ সালে নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে এবং ২০৩৬ সালে প্রথম ইউনিট চালু হবে।
