হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অতনু বণিকের বিরুদ্ধে মামলা-সংক্রান্ত কাজে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে দেখা অর্থ লেনদেনের প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয় এবং মোট কত টাকা লেনদেন হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুকুরের পাশে বসে এক ব্যক্তির সঙ্গে মামলা-সংক্রান্ত কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা বলছেন এএসআই অতনু বণিক। তাদের কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তিকে বসে ধূমপান করতে দেখা যায়। কথাবার্তার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি পুলিশের কর্মকর্তার হাতে টাকা তুলে দেন।
ভিডিওতে কথোপকথনের সময় টাকার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করতে শোনা যায়। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘নেন, আপনার কথা আমি রাখলাম। ছয় হাজার আর চার হাজার—মোট ১০ হাজার আছে।’ পরে তিনি বলেন, ‘আপনার কথাই রাখছি।’
এর জবাবে এএসআই অতনু জানতে চান, ‘তোমার টোটাল ১৫ দেওয়ার কথা ছিল না?’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘না, ১০ হাজার টাকা। আপনার মুখ দিয়ে বলেছেন ১০ হাজার, আমিও বলেছি ১০ হাজার।’
কথোপকথনের একপর্যায়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে আবার বলতে শোনা যায়, ‘আর দুই হাজার টাকা দাও।’ এরপর ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে এক হাজার টাকার একটি নোট এএসআই অতনুর হাতে দিতে দেখা যায়।
তবে ভিডিওটির কথোপকথন থেকে অর্থ লেনদেনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিশ্চিত হওয়া যায় না। কোন মামলার বিষয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল, মামলায় পুলিশের কী ধরনের ভূমিকা ছিল, আগে কত টাকা দেওয়ার কথা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত মোট কত টাকা দেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর ভিডিওতে নেই। ফলে শুধু ভিডিওর দৃশ্য ও কথোপকথনের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
তবে একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মামলা-সংক্রান্ত আলোচনার সময় অর্থ লেনদেন এবং পরে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। আর অভিযোগটি অসত্য বা ভিডিওটি অসম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়ে থাকলে সেটিও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
মামলা পরিচালনা, তদন্ত কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। এ কারণে এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুষ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে অভিযোগের সত্যতা না মিললে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অবস্থানও স্পষ্ট করার প্রয়োজন পড়ে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এএসআই অতনু বণিককে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তাকে প্রত্যাহারের পর কোথায় সংযুক্ত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে কি না এবং ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় ও স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যে মামলাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, সেটির নথিপত্র পর্যালোচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন মূল প্রশ্ন হলো, ভিডিওতে দেখা অর্থ আসলে কেন দেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনো মামলা-সংক্রান্ত সরকারি দায়িত্বের সম্পর্ক ছিল কি না। পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া গেলে এসব প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ঘটনাটিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে; অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের ফলের ওপর নির্ভর করবে।









